সংবাদদাতা, ডোমকল: শ্মশান রয়েছে, কিন্তু সেখানে নেই স্থায়ী, অস্থায়ী কোনো কর্মী। নেই কোনও তদারকি ব্যবস্থাও। দেহ দাহ করতে লাগে না ডেথ সার্টিফিকেট। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই ডোমকলের ধুলাউড়ির কাশীপুরে মস্তরাম শ্মশানে নির্বিঘ্নে চলছে শবদাহ। ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া দাহকর্ম যেখানে সম্পূর্ণ বেআইনি, সেখানে কীভাবে দিনের পর দিন এভাবেই চলছে ওই শ্মশান, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ডোমকলের কাশীপুরে খয়রামারি বিলের ধারেই রয়েছে ওই শ্মশান। শ্মশানের উল্টোদিকে রয়েছে মস্তরাম সাধুর আখড়া। রাস্তার ধারে বিলের পাড়ে হলেও শ্মশানে ঢুঁ মারেন না কেউই। শ্মশানে গিয়েও দেখা মেলেনি কোনো কর্মীর। নেই অফিসও। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শ্মশানে কেউ থাকে না। ডেথ সার্টিফিকেটও দেখাতে হয় না। লোকজন আসে চুপচাপ দেহ দাহ করে চলে যায়। এর থেকে বেশি কিছু জানি না। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, একসময়ে পঞ্চায়েত সমিতির অর্থে ওই শ্মশানটি তৈরি হয়েছিল। পরে তা পঞ্চায়েতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরে পঞ্চায়েত অবশ্য ওই শ্মশান নিয়ে আর মাথা ঘামায়নি। স্থানীয়দের দাবি, শবদাহ করতে কোনো শংসাপত্রের প্রয়োজন হয় না। শ্মশানে কোনো কমিটির অস্তিত্বও নেই। বছর কয়েক আগে কমিটি গঠনের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনও রূপ আজও দেখা যায়নি। তবে, এভাবে কোনও ধরনের নজরদারি ও ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই শ্মশান পরিচালনা আইনসঙ্গত নয় বলেই মত চিকিৎসক মহলের। ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক বরুণ বিশ্বাস বলেন, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া শবদাহ হলে তা স্পষ্টতই আইনভঙ্গ। এতে ভবিষ্যতে কোনও তদন্তের ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সূত্র পাওয়া সম্ভব হবে না। ডোমকলের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর বালা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই শব দাহ হয় ওই শ্মশানে। কিন্তু কোন দেহ কোথা থেকে আসছে, মৃত্যুর কারণ কী, ডেথ সার্টিফিকেট রয়েছে কি না, সেসব দেখার কেউ নেই। সবকিছুই চলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। এমনকি, কবে কাকে ওই শ্মশানে দাহ করা হচ্ছে, তার কোনও রেকর্ডও থাকে না বলে অভিযোগ।



