নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রশাসনিক তৎপরতায় শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের গ্রামের মাটির রাস্তার হাল বদলেছে। চিরতরে মিটে গিয়েছে পানীয় জলের সমস্যাও। তবে, এখনও সূর্য ডুবলেই শহিদের গ্রামে আঁধার নামে। পথবাতি না থাকায় রাস্তাঘাট অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। মহম্মদবাজার ব্লকের বেলগড়িয়া গ্রামের ছবিটা ঠিক এমনই। পাশাপাশি এলাকায় রয়েছে নিকাশি সমস্যাও। বছরভর তেমন সমস্যা না হলেও ভরা বর্ষায় খানিকটা হলেও বেগ পেতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বীর শহিদের প্রতিবেশীরা চাইছেন প্রশাসনিক কর্তারা গ্রামের দিকে একটু নজর দিক। উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থার পাশাপাশি পথবাতির বন্দোবস্ত করা হোক।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ওই এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে নজর দিতে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে বলা হবে। পঞ্চায়েতের দাবি, স্থানীয়দের তরফে জানানো হলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বীরভূমের মহম্মদবাজার ব্লকের বেলগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন রাজেশ ওরাং। ভারতীয় সেনার বীর এই জওয়ান ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা অগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় লাল ফৌজের হামলায় তিনি শহিদ হন। গ্রামে ঢোকার মুখে তাঁর স্মৃতিতে একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। ওই গ্রামটি ভূতুরা পঞ্চায়েতের অধীন। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামটি বরাবরই উন্নয়ন থেকে দূরে ছিল। তবে, রাজেশ শহিদ হওয়ার পর অবশ্য উন্নয়নের জোয়ার আসে। রাস্তা সহ পানীয় জলের বন্দোবস্ত করা হয় গ্রামে। কিন্তু, আচমকাই সবকিছু থিতু হয়ে যায়। ফলত পথবাতি ও নিকাশির কাজ আজও অধরা। বৃষ্টির সময় একাধিক বাড়ির উঠানে জল জমার অভিযোগও উঠেছে।
জেলার সদর শহর সিউড়ি থেকে মহম্মদবাজার যাওয়ার পথে ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক ছেড়ে কংক্রিটের রাস্তা ধরে শহিদ রাজেশের গ্রামে পৌঁছতে হয়। কংক্রিটের রাস্তার দু’ধারে ফাঁকা জমি রয়েছে। সেই পথ ধরে খানিকটা এগতেই শহিদের সমাধিস্থল নজরে পড়ে। সেখানেই তাঁর আবক্ষ মূর্তিটি রয়েছে। পাশেই হাইমাস্ট লাইট বসানো হয়েছে। যদিও সেখান থেকে কংক্রিটের রাস্তা ধরে গ্রামের ভিতরে হেঁটে গেলে পথবাতির দেখা মেলে না। স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু ওরাং বলেন, গ্রামের রাস্তায় পথবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর চলাচলে সমস্যা হয়। সনৎ ওরাং বলেন, পথবাতির সমস্যা তো রয়েছেই। নিকাশি ব্যবস্থাও বেহাল। গ্রামে কোনও ড্রেন নেই। বৃষ্টি হলে অনেক সময় বাড়িতে জল জমে। বাধ্য হয়ে আমরা অনেকেই মাটি ফেলে ভিটে উঁচু করেছি। তবে, গ্রামে ড্রেন তৈরি করা প্রয়োজন।
স্থানীয় উপপ্রধান মধুসূদন রুজ বলেন, ওই গ্রামে দু’টি সোলার লাইট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিকাশির বিষয়ে স্থানীয়রা আমাদের জানালে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।