নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সাইরং–কলকাতা এক্সপ্রেসের সূচনাতেই উঠল বিতর্ক। কৃষ্ণনগরের পর নৈহাটি পর্যন্ত স্টপেজ থাকলেও রানাঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জংশনে ট্রেনটিকে থামানো হচ্ছে না। তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রানাঘাটের আমজনতা। অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দান—সর্বত্রই এখন এই ইস্যুতে সরগরম।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে উদ্বোধনের পর রবিবার ট্রেনটি প্রথমবার রানাঘাট স্টেশন অতিক্রম করে। প্রথম থেকেই দাবি ছিল, এই ট্রেনের স্টপেজ দিতে হবে রানাঘাটে। এর আগে রানাঘাট পুরসভা ও তৃণমূলের তরফে এবং বেশ কিছু অরাজনৈতিক সংগঠনের তরফে রানাঘাটের স্টেশন মাস্টারের কাছে স্টপেজের দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্বেও রানাঘাটে স্টপেজ রাখা হয়নি কলকাতার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগ রক্ষার এই ট্রেনের। তাই রবিবার স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভে সামিল হন রানাঘাট নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্টেশনে ঢুকতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সংগঠনের সম্পাদক জয়দেব মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা চাইছিলাম ট্রেনটির রানাঘাটে স্টপেজ দেওয়া হোক। কিন্তু স্টেশন চত্বরে ঢোকারই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
অরাজনৈতিক ভবে বিক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘রানাঘাটের মানুষ স্পষ্ট দেখছেন কিভাবে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিজেপির সাংসদ থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের স্বার্থে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না ওরা। অথচ, গুরুত্বের দিক থেকে নৈহাটি বা কৃষ্ণনগরের চেয়ে রানাঘাট অনেক এগিয়ে। এখানেই কৃষ্ণনগর মেইন লাইন, বনগাঁ, গেদে এবং শান্তিপুর শাখা এসে যুক্ত হয়েছে।’ এছাড়াও তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে বারবার বঞ্চিত করছে। রানাঘাটের মানুষ ঢালাও ভোট দিয়েছিলেন বিজেপিকে, অথচ তাঁদের ন্যায্য দাবি পূরণ হচ্ছে না।
অন্যদিকে, পাল্টা সুর বিজেপির সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূল নিছক ভোটের রাজনীতি করছে। ট্রেনটি ২২ কামরার। রানাঘাটে প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য এমন নয় যে সব বগি দাঁড় করানো যাবে। তাই আপাতত স্টপেজ দেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ নিয়ে রেলমন্ত্রক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগকে মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’