Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাধীনতার পর থেকে বিদ্যালয় নেই বলরামপুরের গ্রামে, সরব বাসিন্দারা

স্বাধীনতার এত বছর পরেও বিদ্যালয় নেই গ্রামে।  প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের জন্য দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে হয় শিশুদের

স্বাধীনতার পর থেকে বিদ্যালয় নেই বলরামপুরের গ্রামে, সরব বাসিন্দারা
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত মাহাত, পুরুলিয়া: স্বাধীনতার এত বছর পরেও বিদ্যালয় নেই গ্রামে।  প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের জন্য দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে হয় শিশুদের। পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর ব্লকের বঙ্গাপটম গ্রামের বাসিন্দারা এলাকায় স্কুল তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের কচিকাঁচারা পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে প্রায় দু’কিমি হেঁটে নিকটবর্তী গিদিঘাঁটি কিংবা বেলাগ্রামে যায়। অনেকেই আবার দূরের ওই স্কুলে যেতেও পারে না। ফলে অনেক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক অভিভাবক আবার তাঁদের সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। 

Advertisement

তিন দশকেরও বেশি সময় আগে গ্রামের শিশুদের শিক্ষার সুবিধার জন্য বিদ্যালয় তৈরির জন্য জমি দান করেছিলেন গ্রামের অর্জুন সিং সর্দার নামে এক ব্যক্তি। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তবু, বিদ্যালয় তৈরিতে কোনও ভূমিকা গ্রহণ করেনি তৎকালীন বাম সরকার। এমনকী, সরকার পরিবর্তনের পরেও ওই দুর্দশার ছবি ঘুচল না। পুরুলিয়ার বলরামপুর থানা এলাকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শম্ভু সিং সর্দার, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, ঘনশ্যাম মাহাত বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্কুল তৈরির বিষয়ে প্রশাসনিক দরজায় গেলেও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি প্রশাসনের তরফে। ২০২১ সালে পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষাদপ্তরে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছয়। এই ঘটনার পরও প্রায় তিন বছর কেটে গেলেও প্রশাসনিকভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গ্রামেরই এক বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও চিঠি লিখে আবেদন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকাশ ভবন থেকে গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। স্কুল নির্মাণের বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। আশ্বস্ত করা হয়, বঙ্গাপটম গ্রামে বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। তারপর আর স্কুল নির্মাণের বিষয়টি এগয়নি। গ্রামে স্কুল তৈরি হলে পড়াশোনার জন্য আর শিশুদের দুই কিলোমিটার দূরে অন্য গ্রামে যেতে হবে না। জমিদাতা পরিবারের সদস্য তথা ওই গ্রামের বাসিন্দা শম্ভু সিং সর্দার বলেন, বাবা স্কুলের জন্য জমি দান করেছিলেন। কিন্তু বাবা জীবিত অবস্থায় গ্রামে স্কুল দেখে যেতে পারলেন না। কবে ওই জমিতে স্কুল হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ