নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যতদিন ভারতের প্রতিটি গৃহহীন নাগরিকের পাকা বাড়ি না হয়, ততদিন শান্তি পাবেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ততদিন তিনি শান্তিতে বসেও থাকবেন না। এই হল তাঁর প্রতিজ্ঞা। বাংলায় যাওয়ার আগে শুক্রবার মোদি বিহারের গয়ায় এক জনসভায় জানালেন, আমার একটি সংকল্প আছে। যতদিন প্রত্যেক ভারতবাসীর নিজের ঘর না হবে, ততদিন আমি শান্তিতে বসে থাকব না। গরিবের জীবনের সমস্যা দূর করা, মহিলাদের জীবন সংগ্রামকে আরও একটু সহজ করা, গরিবের সেবক হিসেবে কাজ করাই আমাকে সবথেকে বেশি আনন্দ দেয়। আমরা যে, শুধু চারটি দেওয়াল দিয়েছি তাই নয়। আমরা বিজলি, পানি, শৌচালয়, গ্যাস সব দিয়েছি। সুতরাং যতক্ষণ না সকলের নিজের পাকা ঘর দিচ্ছি, ততদিন আমার শান্তি নেই। আপাতভাবে এই বক্তব্যের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ কোনও বার্তা সন্ধানের প্রয়োজন নেই। কারণ ২০১৪ সালের পর থেকে দেশজুড়ে বহুবার সভা সমাবেশে মোদি আবাস যোজনার উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর সরকার এ পর্যন্ত কত মানুষের জন্য আবাস দিয়েছে সেই প্রচারও নিয়ম করে করা হয়েছে। কিন্তু মোদি শুক্রবার যে সংকল্পের কথা শুনিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট তিনি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত থাকছেন। অবসরের জল্পনা করে লাভ নেই। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদির ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হবে। সেই কারণেই জল্পনা ছিল তিনি কি পদত্যাগ করে অবসরে চলে যাবেন? রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসংঘচালক সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়ে বলেছিলেন, ৭৫ বছর বয়স হলে নেতাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াই উচিত। কিন্তু মোদি শুক্রবার জানালেন, যতক্ষণ না সকলের জন্য ঘর হবে, ততদিন তাঁর শান্তি নেই। সুতরাং....।
এদিন বিহার ও বাংলার দুই সভাতেই মোদি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশ লড়ছে। দুর্নীতি রোধে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। কোনও সরকারি কর্মী জেলে ৪৮ ঘণ্টা থাকলে, তাঁর চাকরি চলে যায়। তিনি সাসপেন্ড হয়ে যান। কিন্তু কোনও মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী জেলে চলে গেলে তার জন্য কোনও আইন নেই। এখন তো জেলে বসেই সরকার চালানোর ঘটনা ঘটছে। মন্ত্রীরা জেলে গেলেও মন্ত্রিত্ব ছাড়তে চাইছেন না। দুর্নীতিগ্রস্ত লোক কীভাবে সরকারের পদে বসার অধিকার পায়? আমরা কঠোর আইন আনতে চাইছি। মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী যদি গ্রেপ্তার হয়ে ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে পরের দিন তার চেয়ার চলে যাবে। কিন্তু তৃণমূল সহ ইন্ডিয়া জোট এই আইনের বিরোধিতা করছে।



