Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টেন্ডারে সাড়া নেই শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের, সবুজের সমারোহ যেন অভিশাপ! অনাদারে সালানপুরে ‘বর্ধমান ভবন’

টেন্ডার ডেকে ডেকে ক্লান্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদ।

টেন্ডারে সাড়া নেই শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের, সবুজের সমারোহ যেন অভিশাপ! অনাদারে সালানপুরে ‘বর্ধমান ভবন’
  • ১৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সালানপুর: সবুজ ভালোবাসেন ক’জন? একবাক্যে সবাই হয়তো বলবেন, ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর! তা হলে পাল্টা প্রশ্ন ওঠে, কেনই বা সবজু ধ্বংস করে চারিদিকে এত কংক্রিটের জঙ্গল? ফলে বলাই যায়, সবুজ অপছন্দের তালিকাটা নেহাৎ ছোট নয়! সেই কারণেই সম্ভবত সবুজ ঘেরা, সুন্দর প্রকৃতির মাঝে এক টুকরো ‘শান্তি-নীড়’ পরিচালনার ভার নিতে মুখ ফেরাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। টেন্ডার ডেকে ডেকে ক্লান্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদ। কিন্তু সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুরে ‘বর্ধমান ভবন’কে চুক্তিতে নিতে চাইছেন না কেউই। যেটি আদতে একটি বনবাংলো। চতুর্দিকে ঘন জঙ্গল। ছোট-বড় গাছেদের কোলাকুলি। গাছে গাছে পাখিদের পাঠশালা। সবমিলিয়ে মনোরম পরিবেশ। অথচ, সেই সবুজই নাকি বাংলোটির কাছে অভিশাপ। তাকে ঘিরে গাছ-গাছড়ার বাড়বাড়ন্ত দেখে পিছিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী মহল। অরণ্য সপ্তাহ পালনের মধ্যে এ এক ভিন্ন চিত্র।

Advertisement

অতঃপর, ফল যা হওয়ার তাই। অনাদরে পড়ে থেকে ‘বর্ধমান ভবন’-এর পরিচয় এখন ‘বনবাংলো’ থেকে হয়েছে ‘ভূত বাংলো’। পলেস্তরা খসে পড়ছে। দেওয়ালে শ্যাওলা জমছে। ভেঙে পড়ে রয়েছে বিদ্যুতের খুটি। বাংলোর চারিপাশ ঢাকা পড়েছে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছে। জরাজীর্ণ দশা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে জঙ্গলের ভিতর কংক্রিটের ভবনটি। 
জেলা সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘বর্ধমান ভবনটি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে। বেশিরভাগ অংশ গাছে পরিপূর্ণ। সরকারি নিয়ম মেনে আমরা যে অর্থ উল্লেখ করে টেন্ডার আহ্বান করছি, তাতে কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানতে পারি, সবুজ ধ্বংস করে কংক্রিটের নির্মাণ না করলে ভবনটি নিয়ে নাকি তাদের কোনও লাভ হবে না। গোল বেঁধেছে ঠিক এখানেই।’ 
রূপনারায়ণপুর থেকে মিহিজামগামী রাস্তাটিকে বলা হয় বিহার রোড। সেই সড়কের পাশেই রয়েছে ছবির মতো সুন্দর ‘বর্ধমান ভবন’। নিরিবিলি, শান্ত পরিবেশ। সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রাচুর্য। প্রকৃতিকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের অবসর যাপনে আদর্শ জায়গা। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের জঙ্গল প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে বহু ট্যুরিস্ট স্পট গড়ে উঠেছে। সবুজেরটোনে বহু মানুষ আসেন। ‘বর্ধমান ভবন’ও একটা ট্যুরিস্ট স্পট। রয়েছে থাকার সুবন্দোবস্ত। কিন্তু, শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভবনটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার কোনও সদিচ্ছাই নেই। অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে এই সরকারি সম্পত্তি। অথচ, এর শোভা বর্ধন করা হলে যেমন পর্যটকরা থাকার নতুন ঠিকানা পেতেন, তেমনিই পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের রাজস্বও বাড়ত। 
‘বর্ধমান ভবন’-এর অদূরেই রয়েছে জেলা পরিষদের টোল প্লাজা। দীর্ঘদিন পর সেই টোল প্লাজার টেন্ডার হয়েছে। চড়া দরে সেই প্লাজা নিয়েছে এক সংস্থা। জেলা পরিষদ এখন চাইছে, ওই সংস্থাকে দিয়েই ‘বর্ধমান ভবন’-এর প্রাণ ফেরাতে, সচল করাতে। সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘পুরো সম্পত্তিটি জেলা পরিষদের অধীনে। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তারাই নেবেন।’  অবহেলায় বর্ধমান ভবন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ