পঞ্চমীতেও মিলল না পুজোর বোনাস, বেতন! বেকায়দায়  উত্তরবঙ্গ মেডিকালের ৭০০ অস্থায়ী কর্মী
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ঢাকে কাঠি পড়েছে, শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সর্বত্রই আনন্দে মেতেছে মানুষ। অথচ পঞ্চমীতেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এজেন্সির অধীনে কর্মরত কর্মীরা বোনাস পাননি। 

Advertisement

তাঁরা জানিয়েছেন, পুজোর মুখে পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা থেকে শুরু করে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সব কিছুই নির্ভর করে থাকে এই সামান্য আয়ের উপর। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন না মেলায় সমস্যায় পড়েছেন কর্মীদের একাংশ। পুজোর আগে বোনাস পাওয়ার আশাও ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। 
হাসপাতালের পুরনো ভবনে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের পঞ্চমীর রাতেই বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এজেন্সি মালিক অনিমেষ দাস। তবে সুপার স্পেশালিটি ব্লকে কর্মরত দুই শতাধিক কর্মীর বকেয়া বেতন ও বোনাস কবে মিলবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। 
এজেন্সির মালিক অনিমেষ দাসের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ সময়মতো না মেলায় এই আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই নয়, শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চ, পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের মতো একাধিক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু, বহু ক্ষেত্রেই চার মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তাঁর প্রাপ্য টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 
অনিমেষ দাসের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির তরফে তাঁকে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় বকেয়া মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকায় কর্মীদের বেতন ও বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর বেতন ও বোনাস দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা বকেয়া পাওনা না মিটলে সামলানো কঠিন। সীমিত আর্থিক সংস্থান থেকে দীর্ঘদিনের বকেয়া সামলে একসঙ্গে এত কর্মীর বেতন ও বোনাস দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই এই সমস্যা নিয়ে কর্মীরা তাঁকে জানিয়ে আসছেন। সেই মতো সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মালিক এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। তবে সুপারের বক্তব্য, এজেন্সি নিয়োগের সময় টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি করা হয়। সেই চুক্তিতে কর্মীদের বেতন সহ যাবতীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি এজেন্সির উপরেই বর্তায়। কোনো পরিস্থিতিতে কর্মীরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সির।