চোর সন্দেহে আটক ব্যক্তির পুলিশি হেফাজতে রহস্যমৃত্যু, অগ্নিগর্ভ দুবরাজপুর থানা চত্বর
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পুলিশি হেফাজতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল বীরভূমের দুবরাজপুর থানা চত্বর। ‘চোর’ সন্দেহে তুলে আনা এক ব্যক্তির রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ফিরিয়ে আনতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পুলিশের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে।

Advertisement

মৃতের নাম বরজাহান শাহ। তাঁর বাড়ি দুবরাজপুর থানার যশপুর পঞ্চায়েতের পছিয়ারা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ব্যক্তিগত কাজে যশপুর গ্রামে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে চোর সন্দেহে আটক করে থানায় নিয়ে আসে দুবরাজপুর থানা। পরিবারের দাবি, এরপর থানার অন্দরেই তাঁর উপরে নির্যাতন চালানো হয়। মৃতের ছেলে ইসমাইলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ‘থানার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা নিজেদের চোখেই দেখেছি, কীভাবে পুলিশ বাবার ওপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে।’
এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতের স্ত্রী আজমীরা বিবি। আক্ষেপ আর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে থানায় ছুটে গেলেও ওর সঙ্গে একবারের জন্যও আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমার চোখের সামনেই ওর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল।’ আজমীরার আরও অভিযোগ, স্বামীর ওই শোচনীয় অবস্থা দেখেও পুলিশ কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, উল্টে পুরো বিষয়টিকে স্রেফ ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দেয়। এক প্রত্যক্ষদর্শীও জানান, সন্ধ্যার দিকে থানার ভেতরে বরজাহানকে অত্যন্ত নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হেফাজতে মৃত্যুর এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পছিয়ারা এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই শোক বদলে যায় প্রতিবাদে। হাসপাতাল থেকে বরজাহানের নিথর দেহ ফের থানায় নিয়ে আসা মাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করতেই পুলিশের পথ আটকান ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী পুলিশকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখে থানার সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও থমথমে ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে রয়েছে গোটা দুবরাজপুর থানা এলাকা।