অষ্টমীতে শ্যামরূপার মন্দিরে তোপধ্বনির উৎস আজও রহস্য! কাঁকসার গড়জঙ্গলে নাকি হতো নরবলি
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল, মানকর: দুর্গাপুজোয় কাঁকসার গড়জঙ্গলে শ্যামরূপা মন্দিরে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন। অষ্টমীর দিন শোনা যায় তোপধ্বনি। কিন্তু কোথা থেকে সেই শব্দ আসে, তা জানা যায়নি এতদিনেও। কথিত আছে, এক সময় এখানে নরবলিও হতো। যদিও পরে তা বন্ধ হয়।

Advertisement

কয়েকশো বছর ধরে শ্যামরূপা নামে এখানে দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। দেবী এখানে শিলামূর্তিতে অবস্থান করেন। রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলে ইছাই ঘোষ এখানে প্রথম দুর্গাপূজা শুরু করেন। কথিত আছে অষ্টমীর দিন দেবীর স্বপ্নাদেশ উপেক্ষা করে ইছাই ঘোষ যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধে তিনি পরাজিত ও নিহত হন। গড়জঙ্গল থেকে ২ কিলোমিটার দূরে দ্বীপসায়র নামে একটি জলাশয়ে দেবী মূর্তির বিসর্জন দেন তাঁর অনুচরেরা। পরে অষ্টধাতুর মূর্তি স্থাপন করে ফের পুজো শুরু হয়। 
জানা যায়, লক্ষ্মণ সেনের আমলে এখানে একজন কাপালিক ছিলেন। সেই কাপালিক নরবলি দিয়ে মায়ের সাধনা করছিল। কবি জয়দেব এসে নরবলি প্রথা বন্ধের জন্য কাপালিককে অনুরোধ করেন। কাপালিক সেই অনুরোধ রক্ষা না করলে জয়দেব নিজস্ব ভক্তিবলে মায়ের মুখ কৃষ্ণ করে দেন। শ্যাম রূপে মা কালীর দর্শন পান কাপালিক। দেবীর নাম হয় শ্যামরূপা। এই নামটিও কবি জয়দেবেরই দেওয়া। দেবী এখানে একাধারে কালী আবার অন্যরূপে দুর্গা। কথিত রয়েছে, অবিভক্ত বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো এখানেই হয়। মন্দিরের পিছনে মেধা মুনির আশ্রম। সেখান থেকে সামান্য দূরেই প্রাচীন ঢিপি রয়েছে। বোর্ডে লেখা আছে এখানেই রাজা সুরথ ও সমাধি মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে প্রথম দুর্গাপুজো করেন। দুর্গাপুজো ছাড়াও সারা বছরই নিত্যপূজা হয়। প্রতিদিন দেবীকে পায়েস ভোগ দেওয়া হয়। তাছাড়া বাসন্তী পুজোর দিনগুলিতেও পুজো দেখতে আসেন বহু মানুষ। 
ইছাই ঘোষের পরবর্তীকালে হেতমপুরের রাজারা শ্যামরূপার মন্দিরের দখল নেন। তাঁরা স্থানীয় রায়দের মন্দিরের দেখভালের ভার দেন। বর্তমানে রায়রা তিন শরিকে বিভক্ত। তাঁরাই নিয়ম করে দেবী পুজোর আয়োজন করে। রায় পরিবারের সদস্য সন্তোষ রায় বলেন, নবমীর দিনে প্রায় হাজার দশেক মানুষ দেবীর প্রসাদ গ্রহণ করে। সপ্তমীর দিন কোনো ভক্তের মানসিক থাকলে ছাগ বলি হয়। অষ্টমীর দিন যে বলি হয়, তা পুরোহিতরা দেয়। সপ্তমী বা নবমীতে ছাগবলির নিয়ম নেই, তবে অষ্টমীর বলির ছাগটিকে হয় কালো, নয় সাদা হতে হবে।