নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুর শহর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বুধবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে আগমনির অনুষ্ঠানে ব্যাপক বাজি পোড়ানো হয়। শব্দের পাশাপাশি গোটা আকাশ দফায় দফায় আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে বাজির আলোয়। আনন্দ উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। কিন্তু তার ফলে ব্যাপক মাত্রায় দূষণ বেড়েছে।
রিয়েল টাইম তথ্যানুযায়ী, বহরমপুরে বর্তমানে বাতাসের একিউআই ১৩৭ থেকে ১৫২-র মধ্যে অবস্থান করছে, যা বায়ুদূষণের স্কেলে ‘খারাপ’ থেকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিভুক্ত। এদিকে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা যেটা সাধারণত ৬০ মাইক্রোগ্রাম থাকার কথা সেটা বৃহস্পতিবার সকালে ১১৯ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছে গেল। পুজোর আগে এই মাত্রা ভয়ানক বলেই দাবি পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের।
তাঁদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাতাসে অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম ২.৫ এর পরিমাণ বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মাইক্রোগ্রাম থাকা উচিত। সেখানে তা দ্বিগুণ মাত্রায় পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক বড় ধূলিকণা বা পিএম ১০-এর মাত্রা রয়েছে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৬২ থেকে ৮৫ মাইক্রোগ্রামের কাছাকাছি। এই সময়ে বহরমপুরের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে।
বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা বৃদ্ধির ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং হাঁপানি, অ্যাজমা বা হৃদরোগের ভোগা ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষ বলেন, শীত এখনও পড়েনি। তাতেই বহরমপুরের বাতাসের মান বেশ খারাপ। আগামী দিনগুলিতে দূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



