সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে পেট্রলের চরম আকাল শুরু হয়েছে। বহু পাম্পে ‘নো পেট্রল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার থেকেই পেট্রল সরবরাহে আকাল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো পাম্পে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গাড়ির জ্বালানি নির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়েছে। সেই সব পাম্পে পেট্রল কিনতে হুড়োহুড়ি চলছে। পাম্পে বাইকের লম্বা লাইন। এক লিটার পেট্রল কিনতে কার্যত কালঘাম ছুটছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেসব পাম্প মালিক পেট্রলের ন্যূনতম চাহিদা মিটিয়েছেন আজ, শুক্রবার কী হবে তাঁরা নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেননি। এক সপ্তাহে দু’বার পেট্রলের দাম বৃদ্ধির পরেও জ্বালানি তেল না মেলায় সাধারণ মানুষের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের উপর। শহরের মানুষের অভিযোগ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে তেলের দাম বৃদ্ধিই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিসন্ধি। যুদ্ধ পরিস্থিতিই যদি সংকটের কারণ হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের আগেই তার আঁচ করে মজুত বাড়ানো উচিত ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পেট্রল, ডিজেলের সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। বহরমপুর সহ জেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পেট্রল, ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। দৈনিক বাইক পিছু ১০০-২০০ টাকার পেট্রল বরাদ্দ করেছেন পাম্প মালিকরা। চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার ঊর্ধ্বে তেল দেওয়া হচ্ছে না। পাম্প মালিকদের যুক্তি, কাউকে যাতে ফিরে যেতে না হয় তারজন্যই এই ব্যবস্থা। দৈনিক বরাদ্দ কমানো মানুষ মেনে নিয়েছিল। কিন্তু, গত এক সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম চার টাকা বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। আর বুধবার থেকেই পাম্পে লিখে দেওয়া হয় পেট্রল নেই। এক সপ্তাহে দু’দফায় দাম বৃদ্ধি ও তেলের আকাল মানুষ মেনে নিতে পারছে না।



