Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাম্পে ‘নো পেট্রল’ বোর্ড, ক্ষোভ বহরমপুরে

বহরমপুর শহরে পেট্রলের চরম আকাল শুরু হয়েছে। বহু পাম্পে ‘নো পেট্রল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাম্পে ‘নো পেট্রল’ বোর্ড, ক্ষোভ বহরমপুরে
  • ২২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে পেট্রলের চরম আকাল শুরু হয়েছে। বহু পাম্পে ‘নো পেট্রল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার থেকেই পেট্রল সরবরাহে আকাল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো পাম্পে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গাড়ির জ্বালানি নির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়েছে। সেই সব পাম্পে পেট্রল কিনতে হুড়োহুড়ি চলছে। পাম্পে বাইকের লম্বা লাইন। এক লিটার পেট্রল কিনতে কার্যত কালঘাম ছুটছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেসব পাম্প মালিক পেট্রলের ন্যূনতম চাহিদা মিটিয়েছেন আজ, শুক্রবার কী হবে তাঁরা নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেননি। এক সপ্তাহে দু’বার পেট্রলের দাম বৃদ্ধির পরেও জ্বালানি তেল না মেলায় সাধারণ মানুষের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের উপর। শহরের মানুষের অভিযোগ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে তেলের দাম বৃদ্ধিই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিসন্ধি। যুদ্ধ পরিস্থিতিই যদি সংকটের কারণ হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের আগেই তার আঁচ করে মজুত বাড়ানো উচিত ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পেট্রল, ডিজেলের সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। বহরমপুর সহ জেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পেট্রল, ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। দৈনিক বাইক পিছু ১০০-২০০ টাকার পেট্রল বরাদ্দ করেছেন পাম্প মালিকরা। চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার ঊর্ধ্বে তেল দেওয়া হচ্ছে না। পাম্প মালিকদের যুক্তি, কাউকে যাতে ফিরে যেতে না হয় তারজন্যই এই ব্যবস্থা। দৈনিক বরাদ্দ কমানো মানুষ মেনে নিয়েছিল। কিন্তু, গত এক সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম চার টাকা বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। আর বুধবার থেকেই পাম্পে লিখে দেওয়া হয় পেট্রল নেই। এক সপ্তাহে দু’দফায় দাম বৃদ্ধি ও তেলের আকাল মানুষ মেনে নিতে পারছে না। 

Advertisement

বহরমপুরের বাসিন্দা হানিফ শেখ বলেন, পেট্রল, ডিজেলের এমন দুরবস্থা কোনোদিন দেখতে হয়নি। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলেই দেখতে হচ্ছে।
প্রতিদিন বাইকে ১০০ টাকার তেল ভরে পাড়ায় পাড়ায় সবজি বিক্রি করেন মনতোষ হালদার। বৃহস্পতিবার তিনটি পেট্রল পাম্প ঘুরে অবশেষে রাধারঘাট এলাকায় গিয়ে তিনি তেল পেয়েছেন। মনতোষবাবু বলেন, তেল ভরার জন্য আট কিমি ঘুরতে হয়েছে। এভাবে কদিন চলবে কে জানে?
বহরমপুর শহরের রানিবাগান এলাকার এক পাম্প মালিকের বক্তব্য, তেল আনতে গাড়ি গিয়েছে। কিন্তু, তেল পাব কি না, আর পেলে কতটা পাব, জানি না। 
শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি পাম্প বুধবার থেকে বন্ধ। পাম্প মালিক রূপক মুখোপাধ্যায় বলেন, টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকের দাবি মানতে চাইছে না। তাঁদের বক্তব্য, টেকনিক্যাল সমস্যা বলে পাম্প মালিক তেল সংকটের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ