সংবাদদাতা, সিউড়ি: শতাব্দী প্রাচীন সিউড়ি পুরসভা, তাও আবার জেলার সদর শহর। অথচ আজও গড়ে ওঠেনি স্থায়ী বাজার। রাস্তা দখল করেই চলছে আনাজ থেকে শুরু করে মাছ-মাংস বিক্রি। ফলে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজটের। তেমনই বিপাকে পড়তে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের। সিউড়ি শহরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, জেলা শহরের বেশকিছু জায়গায় রয়েছে অস্থায়ী বাজার। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল টিনবাজার বাজারপাড়া এবং কোর্টবাজার।
সিউড়ি পুর এলাকায় রয়েছে টিনবাজার বাজারপাড়া। যেখানে মূলত আনাজের বাজার বসে। অধিকাংশ দোকানই বসে রাস্তা দখল করে। ওই এলাকায় সাত সকালে গেলে দেখা যাবে, রাস্তায় দু’পাশ দখল করে চট পেতে এবং মাথায় ত্রিপল খাঁটিয়ে আনাজ ব্যবসায়ীরা নিজেদের অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসেছেন। আর ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। ফলে প্রতিদিন সকালে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা দায় হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে ওই রাস্তার উপর আনাজ নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। আর দুপুর হতেই বাজার উঠে যায়। কিন্তু সকাল থেকেই রাস্তার দু’দিক দখল করে বাজার বসার ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বছর ২০ আগেও ওই এলাকায় টিনবাজার নামে একটি জায়গায় স্থায়ী বাজার বসত। কিন্তু, ওই জায়গায় একটি মার্কেট করে সেখানে বাজার করার পরিকল্পনা নেয় পুরসভা। সেই মতো একটি মার্কেটও তৈরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আগে সিউড়ি সাঁইথিয়া রাস্তার উপর মাছের বাজার বসত। এখন সেই মাছ বাজার সরিয়ে ওই এলাকায় থাকা ওই ভবনের নীচের তলায় বসানো হয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের দাবি, ওই বাজারও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকে।
শহরের আরও একটি বাজার রয়েছে কোর্ট বাজার। এই বাজারটিতেও নিত্যদিন অসংখ্য ক্রেতা এসে উপস্থিত হন। ওই বাজারে গেলে দেখা যাবে, বাঁশ দিয়ে চালা খাটিয়ে অনেকেই সব্জির পসরা বসিয়েছেন। ঠিক তার পাশে রয়েছে খুচরো মাছ বিক্রেতাদের অস্থায়ী দোকান। শহরবাসীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বাজার খোলা থাকে। এছাড়া মাংসের দোকান রয়েছে, কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের পিছনের পুকুর পাড়ে।
বিক্রেতাদের থেকে জানা গিয়েছে, আগে সিউড়িতে জেলাশাসক দপ্তর সংলগ্ন এলাকায় একটি অস্থায়ী বাজার ছিল, যেখানে মাছ, মাংস, আনাজ সমস্ত দোকান ছিল। কিন্তু, পরবর্তীতে সেগুলিকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়।
শহরের ব্যবসায়ীদের দাবি, যে সমস্ত জায়গায় ক্রেতারা আসবেন সেই সমস্ত জায়গায় যদি পুরসভা স্থায়ী বাজার করে দেয় তাহলে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের সুবিধা। এই নিয়ে সিউড়ির ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কিষান পাল বলেন, শতাব্দী প্রাচীন পুরসভা। বাম, কংগ্রেস কিংবা তৃণমূল যে ক্ষমতাই থাকুক না কেন একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করতে পারেনি। এটা সত্যিই লজ্জার।
পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, মাছ বাজারের উপরে টিনের শেড দেওয়া হবে। সব্জি বিক্রেতাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা তৈরি হবে। ইতিমধ্যে এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।