সংবাদদাতা, মানিকচক: ভিটেমাটি কেড়েছে বন্যা। বেঁচে থাকতে জীবনযুদ্ধের পাশাপাশি ভূতনির কেশরপুর বাঁধে আশ্রয় নেওয়া তিন শতাধিক পরিবারের সামনে এখন নতুন বিপদ এসআইআর। বিএলও ফর্ম দিয়ে গেলেও কীভাবে পূরণ করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না দুর্গতরা। এলাকায় দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বিএলএদের। সময় কমে আসায় এখন অনেকেই নিজের মতো করে ফর্ম পূরণ করছেন। দেখা যাচ্ছে, তাতে অজস্র ভুল। ফলে ফর্ম বাতিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। মানিকচকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকচক ব্লকের উত্তর চণ্ডীপুরের রিং বাঁধের ওই পরিবারগুলি এখন প্রশাসনিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। কেউ পাশে না দাঁড়ালে নাম বাদ যাওয়ার ভয় চেপে বসেছে তাঁদের মনে। কেশরপুরের ১৭ নম্বর বুথ কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৩১ জন ভোটার। সেখানে ইতিমধ্যে বাঁধে অস্থায়ী বাসস্থানে গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম বিতরণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও। ফর্মে কোথায় কী লিখতে হবে, কোনও নথি লাগবে কি না, সেসব বুঝে উঠতে পারছেন না বাসিন্দারা। ওই পরিবারগুলির মধ্যে শিক্ষিতের হার একেবারেই কম। হাতেগোনা কয়েকজন থাকলেও তাঁরা বর্তমানে গ্রামের বাইরে। বুধবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় নবম শ্রেণির ছাত্র প্রসেনজিৎ মণ্ডল কেশরপুর কলোনির বাসিন্দাদের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করছে। ফর্মে বিভিন্ন তথ্য ভুলে ভরা, বারবার নাম ও সম্পর্ক পরিবর্তন করা হয়েছে। এবিষয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিএলওরা ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছেন। কিন্তু কেশরপুর কলোনি, কালুটোনটোলায় ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার মতো কেউ নেই।
ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের বিএলএরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্তু ভূতনির রিং বাঁধের বন্যা দুর্গতদের জন্য সেসবের কোনও বালাই নেই। ইতিমধ্যে গঙ্গা ভাঙনে সমস্ত কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তাঁরা। অনেকে গঙ্গা ভাঙনে কাগজ হারিয়ে ফেলেছেন। এমনকী গ্রামের একমাত্র বুথ ১৭ নম্বর কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে গঙ্গাগর্ভে। পরবর্তীতে কোথায় ভোটদান করবেন, সেটাও জানেন না বাসিন্দারা। এবিষয়ে স্থানীয় গৃহবধূ চন্দনা মণ্ডল বলেন, গ্রামে অনেকে এখনও ফর্ম পূরণ করেননি। অনেকে আবার না জেনে ভুল করেছেন। ফর্ম পূরণে সাহায্য করতে পঞ্চায়েত সদস্যকে অন্যান্য জায়গায় দেখা গেলেও আমাদের গ্রামে আসেননি। এখনও সময় রয়েছে। দেখা যাক কেউ আসেন কী না। তবে, ভুল ফর্ম পূরণ হলে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছি আমরা।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বীরেন মাহাতো বলেন, প্রতিদিন গ্রামে গিয়ে ফর্ম পূরণ করছি। সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। কাল গিয়ে দুর্গতদের ফর্ম পূরণ করে দেব। • নিজস্ব চিত্র।