নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী দু’বছর কোনো বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেবে না রাজ্য সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের উপস্থিতিতে জাতীয় শিক্ষানীতি রূপায়ণ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাকে পণ্য হতে দেব না। যে সমস্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে, সেগুলি নিয়ম মানছে কি না, সঠিক হারে ফি নিচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন চলবে। তারপরেই সেগুলির অনুমোদন নবীকরণ করা হবে।’ প্রসঙ্গত, এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী বিকাশ ভবনে বৈঠকে এলেন।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বহু বেসরকারি বিএড, ডিএলএড কলেজ রয়েছে, যেগুলির মান নিয়ে সংশয় আছে। আমরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তো বটেই, উন্নত মানের বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও বিরোধী নই। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও তাদের জন্য দরজা খোলা হয়েছে। তবে আমাদের অগ্রাধিকার সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার সামগ্রিক মান।’ জানা গিয়েছে, রাজ্যের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলির মান খতিয়ে দেখার কাজে আনুমানিক দু’বছর সময় লাগবে। ততদিন নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হবে না। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অনুদান এসে গেলে স্কুলগুলি দ্রতি কম্পোজিট গ্রান্ট পাবে। সমস্ত স্কুলে ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ চালু হবে। যেখানে সিলিং ফ্যান নেই, সেখানে তা দেওয়া হবে। অতিরিক্ত গরমের জন্য রাঢ়বঙ্গ থেকেই শুরু হবে সেই কাজ। গার্লস এবং কো-এড স্কুলে স্যানিটরি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন চালু, পিএম পোষণের জন্য নতুন বাসন এবং অন্যান্য পরিকাঠামো— সবই পাবে স্কুলগুলি। ১ আগস্ট থেকে ইসকন নিজেরা কিছুটা ভরতুকি দিয়ে মিড ডে মিল দিতে শুরু করবে কলকাতার স্কুলগুলিতে। তার আগে সংবাদমাধ্যম ডিম নিয়ে বিতর্ক করুক। সেই মিড ডে মিলের মান দেখার পর আবার কথা হবে।’
দীপকবাবুর ইঙ্গিত, ইসকন মিড ডে মিল দিলেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রাঁধুনিদের চাকরি যাবে না। অন্যদিকে, জগন্নাথবাবু জানিয়েছেন, ৫১টি আইটিআই-কে ‘পিএম সেতু’তে যুক্ত করার কারণে সেগুলির বেসরকারিকরণ বা ফি বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারেই অমূলক। বরং সংস্থাগুলি নিজেরাই অর্থ খরচ করে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেবে। এতে চাকরিও ১০০ শতাংশ সুনিশ্চিত হবে পড়ুয়াদের।