নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের বিভিন্ন নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের ‘অডিট’ শুরু হয়েছে। বরোভিত্তিক যৌথ দল গড়ে ফিল্ড সার্ভে চলছে কলকাতা পুরসভা এলাকায়। সমীক্ষা শেষে ১১টি নির্মাণকে পুনরায় কাজ চালুর জন্য ‘গো এহেড’ এনওসি দিয়েছে অডিট কমিটি। কমিটির আওতাধীন টেকনিক্যাল সাব কমিটির প্রস্তাব মেনেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, সার্ভের পর টেকনিক্যাল সাব কমিটির কাছে যেসব নির্মাণের ফাইল পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে ১১টি সাইটে ফের কাজ চালুর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ওই নির্মাণের গায়ে পোস্টারিং করে ছাড়পত্রের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ২৩টি নির্মাণের ফাইল কমিটি পুরসভাকে ফেরত পাঠিয়েছে। সেখানে উল্লেখিত খামতিগুলি সংশোধন করে ফের কমিটির কাছে পেশ করা হবে। তিনি আরও জানান, সার্ভেতে গিয়ে বড়োসড়ো গলদ ধরা না পড়লেও বিভিন্ন কন্ট্রাক্টরের শ্রমিক নিয়োগ ও নিরাপত্তার (লেবার কমপ্লায়েন্স) প্রশ্নে কিছু গাফিলতি সামনে এসেছে। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত খামতিও আছে। এই বিষয়গুলি সংশোধনের জন্য ‘ক্রেডাই’-এর সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে। পাশাপাশি, নির্মীয়মাণ যেসব বিল্ডিং প্ল্যান তিন বছরের বেশি সময় আগে অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলিও এবার অডিটের আওতায় আসছে।
তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে কলকাতা পুরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তর নিয়ে অডিট কমিটি তৈরি হয়। কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ১৩টি পুরসভায় সমস্ত ধরনের নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার নির্মীয়মাণ আবাসিক ভবনগুলিকেও অডিটের আওতায় আনা হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই অডিট চলছে। এদিন স্মিতা পান্ডে জানান, গত তিন বছরে অনুমোদন পাওয়া নির্মীয়মাণ ভবনগুলিকে সার্ভের অধীনে আনা হয়েছিল। সংখ্যাটা ৩৪৪। তার মধ্যে ২০০টি নির্মাণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অ্যাপ্লিকেশন বা ইচ্ছাপত্র দিয়েছে। ১৬০টি নির্মাণস্থলে ফিল্ড ভিজিট ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ। বাকিগুলির কাজও দ্রুত শেষ হবে। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সেই কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে বলে খবর। অডিট কমিটি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তিন বছরেরও আগের অর্থাৎ পাঁচ-ছ’বছরের পুরানো অনুমোদিত প্ল্যানে এখনও যেসব নির্মাণ চলছে, সেখানে এবার সমীক্ষা হবে।
তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতাও। অডিট কমিটির চাহিদা অনুযায়ী নির্মাণভিত্তিক লেবার লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, যে কোনো ডেভেলপার বা কন্ট্রাক্টরের লেবার লাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশন থাকেই। তার ভিত্তিতে সেই কন্ট্রাক্টর কোনো নির্মাণস্থলে শ্রমিক নিয়োগ করেন। কিন্তু নির্মাণস্থলে সমীক্ষায় গিয়ে এক্ষেত্রে গলদ ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, অডিট কমিটি চাইছে, শুধু কন্ট্রাক্টরের লেবার লাইসেন্স থাকলেই চলবে না। সংশ্লিষ্ট নির্মাণভিত্তিক লেবার লাইসেন্স দরকার। বিষয়টি নিয়ে নির্মাণ সংস্থাগুলির যৌথ সংগঠন ‘ক্রেডাই’-এর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন পুর প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, কন্ট্রাক্টরের একটি লেবার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নির্মাণভিত্তিক লেবার লাইসেন্স বানাতে গেলে ছোটো ছোটো কন্ট্রাক্টররা সমস্যায় পড়বেন।