নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: উন্নয়নের নিরিখে ‘ব্যাক বেঞ্চে’ পৌঁছে গেল নন্দীগ্রামের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত। পিছিয়ে পড়া এই তিনটি পঞ্চায়েতই বিজেপির দখলে রয়েছে। তারা ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৫১ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারেনি। অর্থ কমিশনের টাকা খরচে ব্যর্থ ২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর, নন্দীগ্রাম এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-২ পঞ্চায়েত। পারফরম্যান্সের নিরিখে একেবারে পিছনের সারিতে অবস্থান করছে। জেলায় মোট ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পারফরম্যান্সের নিরিখে গোকুলনগর পঞ্চায়েত ২১৮, নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত ২১১ এবং বয়াল-২ পঞ্চায়েত ২১০তম স্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমৃলকে পরাস্ত করে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করেছিল বিজেপি। তারপর দু’বছর কেটে গেলেও বিজেপি সেই প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পারফরম্যান্সে পিছিয়ে থাকা সেটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েত ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে মোট ৭৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৭২ টাকা পেয়েছিল। তারমধ্যে সরকারি হিসেবে অনুযায়ী ৩৩ লক্ষ ১০ হাজার ৭৬২ টাকা এখনও খরচ হয়নি। কিন্তু, অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১ লক্ষ টাকা। বাকি ২২ লক্ষ টাকার হিসেব নেই। এই ২২ লক্ষ টাকা কীভাবে অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হবে তানিয়ে বিডিও সৌমেন বণিক জেলায় চিঠি পাঠিয়েছেন। জেলা থেকে এসংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরে। কিন্তু, এখনও কোনও উত্তর এসে পৌঁছয়নি। গত বছর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা সামনে আসে। পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রেপ্তার হন। প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হয়। এই মুহূর্তে পঞ্চায়েতের ফান্ডে বিস্তর অনিয়ম সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে থাকার কথা ৩৩ লক্ষ টাকা। অথচ পড়ে আছে ১১ লক্ষ টাকা।
ব্লক সদর বিজেপি পরিচালিত নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতও ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২১১তম স্থানে রয়েছে। গত আর্থিক বছরের নয় লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা পড়ে রয়েছে। সময়মতো প্রকল্প হাতে না নেওয়ায় ঠিকমতো টাকা খরচ হয়নি। কয়েকটি ড্রেনের কাজে হাত দিয়েছে পঞ্চায়েত। বৃষ্টির ফলে সেই কাজ থমকে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও বলেন, গোকুলনগর এবং নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। গোকুলনগরে পঞ্চায়েতের ফান্ড নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানে জেলায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছবিটা অন্যরকম। এখানে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় কাজের জন্য গত জানুয়ারি মাসে টেন্ডার ডাকা হলেও ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়নি। গোটা ব্যাপারটাই রহস্যজনক। বিজেপির পঞ্চায়েত কেন ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দিচ্ছে না এনিয়ে বিডিও-র দ্বারস্থ হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা বিরোধী দলনেতা প্রশান্ত মণ্ডল। বিডিও-র হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পঞ্চায়েত ওয়ার্ক অর্ডার দিচ্ছে না। অথচ, পঞ্চায়েতে আট লক্ষ ৩৭ হাজার ২৮৭ টাকা পড়ে রয়েছে। এনিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নিবেদিতা বর্মণকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। নন্দীগ্রাম-২এর বিডিও সুপ্রতিম আচার্য বলেন, আমাদের ব্লকে মোট সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে বয়াল-২ পিছিয়ে রয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, সরকারি কর্মচারীরা সব জায়গায় বোর্ডকে সমানভাবে সহযোগিতা করেননি। যেখানে সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছে সেখানে পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। সেখানে সেই সহযোগিতা পাওয়া যায়নি সেখানে পারফরম্যান্স পিছিয়ে। পারফরম্যান্সে পিছিয়ে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে যাতে আগামী দিনে কাজে গতি আনা যায় তানিয়ে আমাদের চেষ্টা থাকবে।