সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাম আমল থেকেই গোরু পালন ছেড়ে দিয়েছেন, বাস্তুতে কোনো গোরু পালনই হয়নি। দাসপুর-১ ব্লকের হরিরাজপুরের বাসিন্দা বিজেপি নেতা প্রভাসকুমার মাইতি বেশিরভাগ সময়েই মেদিনীপুর শহরের নিজের বাড়িতে থাকেন। বিজেপি করার জন্যেই প্রভাসবাবুকে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা মিশন’ প্রকল্পে গোশালা তৈরির টাকা দেওয়া হল। প্রভাসবাবুর বাড়িতে গোশালা তৈরির জন্য বোর্ডও লাগানো হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে বিজেপির মধ্যেই চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ব্লক প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকেও জানানো হয়েছে। দাসপুর-১ বিডিও অফিসের এক আধিকারিক বলেন, ওই গোশালা তৈরি নিয়ে গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি দরখাস্ত জমা পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাসবাবু এক সময় তৃণমূল করতেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগদান করেন। হরিরাজপুরে প্রভাসবাবুর পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। তা ছাড়াও মেদিনীপুর শহরে দোতলা একটি পাকা বাড়ি আছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সময়ে সেখানেই থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এক সময় প্রভাসবাবুরা গোপালন করতেন। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে তাঁরা আর গবাদি পশু পালন করেননি। এমনকি তাঁদের গোয়ালঘরও নেই। তবুও তিনি শাসকদলকে প্রভাবিত করে নিজের নামে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা মিশন প্রকল্পের গোশালা তৈরির সুযোগ পেয়েছেন।ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই শাসক, বিরোধী দল ছাড়াও বিজেপি কর্মী ও নেতারাও ক্ষুব্ধ। দলেরই একাংশ স্থানীয় বাসিন্দাদের দিয়ে প্রশাসন ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ওই এলাকার বিজেপির এক নেতার প্রশ্ন, যদি একটাও গোরু থাকত বা গোয়ালচালা থাকত, তাহলে আমাদের কিছু বলার ছিল না। কিন্তু মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা হয়ে এ ভাবে অন্যায় উপায়ে প্রকল্প হাতিয়ে নেওয়াটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে দলের ভাবমূর্তিই নষ্ট হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে প্রভাসবাবু বলেন, আমি যে জন্য ওই প্রকল্পের বাড়ি বানাচ্ছি, সেই কাজেই বাড়িটি ব্যবহার করা হবে। প্রশাসন তদন্ত করেই প্রকল্প মঞ্জুর করেছে। তাই এর বাইরে আমি কোনও মন্তব্য করব না। এ নিয়ে চন্দ্রকোণার বিধায়ক সুকান্ত দলুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আমি মন্তব্য করব।-নিজস্ব চিত্র