রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, রানিবাঁধ: মাটির বাড়িতে বাস করার পরেও ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী মূক-বধির যুবকের নাম আবাসের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কেউ আবার দালান বাড়ির মালিক হওয়ার পরেও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সমীক্ষকদের ভাঙা গোয়াল ঘর দেখিয়ে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাঁকুড়ার বিভিন্ন ব্লকে এই ধরনের ভূরিভূরি অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা পড়ছে। যাবতীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন আশ্বাস দিয়েছেন। জেলাশাসক বলেন, অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে যোগ্যদের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন সমীক্ষা চালিয়েছে। আমরা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। কেউ ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
Advertisement
রানিবাঁধ ব্লকের রাউতোড়া অঞ্চলের শুড়িতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নিমাই পাল বিশেষভাবে সক্ষম। তিনি কথা বলতে বা শুনতে পান না। তিনি সেভাবে কাজকর্মও করতে পারেন না। স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। তিনজনকে নিয়ে এক চিলতে মাটির বাড়িতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ওই যুবকের নাম ছিল। নিমাইয়ের দাদা সহ কয়েকজন প্রতিবেশীর নামও ওই তালিকায় ছিল। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নতুন তালিকায় বাকিদের নাম থাকলেও নিমাই বাদ পড়েন। ফলে এই পর্বে তাঁর বাড়ি পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। দাদার নাম তালিকায় থাকায় নিমাইয়ের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, দুই ভাইয়ের একটিই মাটির বাড়ি। মাঝে ত্রিপল দিয়ে দু’টি ভাগ করা হয়েছে। পাকা বাড়ি তৈরির জন্য নিমাইয়ের দাদাকে ওই বাড়ির অর্ধেক ভাঙতে হবে। ফলে নিমাইয়ের ভাগের দিকে বাড়ির অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই বিষয়টি নুন আনতে পান্তা ফুরানো ওই পরিবারটিকে ভাবিয়ে তুলেছে। নিমাই কথা বলতে পারেন না। কিন্তু সকলের কাছে ইঙ্গিতে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তবে, স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস, কেউ তাঁর কথার আমল দেয়নি বলে অভিযোগ। নিমাইয়ের স্ত্রী পুষ্পলতা পাল বলেন, ‘ভাশুর বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করলে আমাদের ঘরটি ভেঙে পড়তে পারে। তখন মূক-বধির স্বামী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে। কী কারণে আবাসের তালিকা থেকে স্বামীর নাম বাদ গেল, তা কেউ জানাতে পারেনি। দ্রুত যাতে আমাদের ফের তালিকাভুক্ত করা হয়, সেই আবেদন রানিবাঁধের বিডিওকে জানিয়েছি। ছাতনার ঝাঁটিপাহাড়ী এলাকার এক বাসিন্দার আবার পাকা দালান সত্ত্বেও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকায় নাম এসেছে। সমীক্ষকদল তাঁর বাড়িতেও যায়। অভিযোগ, ওইসময় পাকা বাড়ির বিষয়টি গোপন করে ওই ব্যক্তি একটি ভাঙা গোয়াল ঘর দেখিয়ে দেন। পরিকল্পনা করে তিনি আগাম গোয়াল থেকে গোরু সরিয়ে বসবাসের সামগ্রী সেখানে রাখেন। ফলে সমীক্ষকরা তাঁকে ‘যোগ্য’ বলে বিবেচনা করেন। পরে স্থানীয়দের আপত্তিতে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়।



