Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নজরদারি ঢিলে হতেই মুরারইয়ে আবারও বালিপাচারের রমরমা

নজরদারি ঢিলে হতেই মুরারইয়ে আবারও বালিপাচারের রমরমা
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জেলাশাসকের নির্দেশের পর বালি চুরি রুখতে একসঙ্গে অভিযানে নেমেছিল ব্লক প্রশাসন, ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর এবং পুলিস। বেশ কিছু বেআইনি বালিবোঝাই ট্রাক্টর আটক করে মামলাও দায়ের করা হয়। প্রশাসন সক্রিয় হতেই বালি পাচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নজরদারি বন্ধ হতেই মুরারইয়ে ফের বালি পাচার শুরু হয়েছে।
Advertisement
দু’মাস আগে বিএলএলআরও প্রণবরঞ্জন সেনাপতিকে বদলি করা হয়। তাঁর জায়গায় এসেছেন জয়ন্ত ভড়। কিন্তু প্রশাসনিক রদবদল হলেও বালি পাচার বন্ধ হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেও পুলিস একটি বালিবোঝাই ট্রাক্টর আটক করে। সেটির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু এলাকার মানুষের দাবি, এসবই আইওয়াশ। রোজ শয়ে শয়ে ট্রাক্টরে বালি পাচার করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে চালকরা ধরা পড়লেও তদন্ত বেশি দূর এগোয় না।
বিএলএলআরও জয়ন্তবাবু বলেন, দু’মাস হল এখানে এসেছি। মাঝেমধ্যেই অভিযান চালানো হয়। চেকিং আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
মুরারইয়ের বাঁশলৈ নদী থেকে দেদার বালি তোলা হচ্ছে। ট্রাক্টরে সেই বালি বোঝাই করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকর হয়ে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, দিনের আলোয় বস্তায় ভরে মোটরভ্যানে বালি পাচার হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার ধারে বালি মজুত রেখে কারবার চালানো হচ্ছে। মে মাসে তৎকালীন জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠি বালি পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেন। তাঁর নির্দেশে নদীর বালি তোলার জায়গা পরিদর্শনের পাশাপাশি পুলিসকে নিয়ে অভিযানে নামেন বিডিও ও বিএলএলআরও। তাঁরা নদীবক্ষ থেকে কয়েকটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করেন। এরপর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ফের বালি পাচার শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, এক রাজনৈতিক নেতার মদতে সিন্ডিকেট করে বালি পাচার চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এই কারবার চলতে পারে না। যেখানে সেখানে বালি তোলার ফলে নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। বাঁধের ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামের রাস্তাও ভাঙছে। কিন্তু মস্তানদের হুমকির ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছেন না।
সম্পর্কিত সংবাদ