Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিজের লিভারের একাংশ দিয়েও বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না মেয়ে 

নিজের লিভারের একাংশ দিয়েও বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না মেয়ে 
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: মেয়ে ছিল বাবা অন্ত প্রাণ। লিভারের অসুখে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন বাবা। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। অপারেশনের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। কিন্তু লিভার দেবে কে? সদ্য আঠারোতে পা রাখা মেয়ে জিগিড় ধরে বসে, বাবাকে বাঁচাতে সে-ই লিভারের একাংশ দেবে। সেই মতো কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দু’জনের অপারেশনের প্রস্তুতি চলে। ওটি’তে যাওয়ার আগে বাবা-মেয়ে একে অপরকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, চারদিন পর একুট সুস্থ হলেই হাসপাতালের করিডরে হাত ধরাধরি করে হাঁটবেন। কিন্তু ভাগ্য সাথ দিল না  খড়ার শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলপতিপুরের দিশা রায়ের। যেদিন বাবা-মেয়ের একসঙ্গে করিডরে হাঁটার কথা ছিল সেদিনই এল ভয়ঙ্কর খবর—লিভার বদল করেও বাঁচানো যায়নি বাবাকে। দিশার বাবা অরূপ রায় (৫৯)। পেশায় ভারতীয় জীবনবিমা নিগমের এজেন্ট। পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিও করতেন। ছিলেন খড়ার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। বর্তমানে খড়ার শহর তৃণমূল সভাপতি পদে ছিলেন। স্ত্রী সুস্মিতা রায় জানান, দুর্গাপুজোর পর থেকেই স্বামীর শারীরিক অসুস্থতা আরও বাড়ে।  প্রায় সময় কলকাতায় থেকেই চিকিৎসা  চলছিল। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছিলেন লিভার প্রতিস্থাপনের। সেই মতো কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে অরূপবাবুকে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে দিশাকেও ভর্তি নেওয়া হয়। ৮ ডিসেম্বর চিকিৎসকরা মেয়ের লিভার বাবার দেহে প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেন। প্রথম দু-এক দিন ঠিকঠাক থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অরূপবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। রাত ৮টা নাগাদ মারা যান। দিশা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘হাসপাতালেই বাবার হাত ধরে হাঁটার কথা ছিল। সেটা আর জীবনে বাস্তবায়িত হল না।’ দিশা এখনও সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। শুক্রবার অরূপবাবুর দেহ শহরে আসে।  
Advertisement
তৃণমূলের ঘাটাল ব্লক সভাপতি দিলীপকুমার মাজি জানান, অরূপবাবু তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকে তৃণমূলের সক্রিয় নেতা ছিলেন। ২০০০ সালে পুরসভার নির্বাচনে সিপিএমের কাছে মাত্র ছ’ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ২০০৫ সালে তৃণমূলের প্রতীকে দাঁড়িয়ে কাউন্সিলার হন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত তৃণমূলের খড়ার শহর সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালে খড়ার পুরসভা টানা তৃণমূল দখল করে আসছে। সেই হিসেবে ২০১০ সাল থেকে তিনি তাঁর নিজের ওয়ার্ড থেকে জিতে পর পর দু’বার  ভাইস চেয়ারম্যান হন।  ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট খড়ার পুরসভার প্রশাসিনক বোর্ডের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পান। ২০২২ সালের পুরভোটে নিজের ওয়ার্ডটি সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২৭ ভোটের ব্যবধানে বিজেপির কাছে হেরে যান। পরে তিনি আবারও তৃণমূলের খড়ার শহর সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অরূপবাবুর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। পুরসভার চেয়ারম্যান সন্ন্যাসীচরণ দোলই বলেন, ‘দল একজন দায়িত্বশীল হারাল। ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ