নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন নীতীশ কুমারকেই বেছে নিল বিহার? শহরে বসবাসকারী বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকরা শহরে ফিরে এসেছেন। ১১ তারিখে যাঁদের ভোট ছিল, তাঁদের অনেকেই যদিও এখনও বিহারে ছুটি কাটাচ্ছেন। যাঁরা ফিরেছেন, তাঁদের চোখে নীতীশের এই জয় দুটি কারণে। এক, মদ নিষিদ্ধ করায় মহিলাদের সমর্থন। দুই, মহিলাদের জন্য ১০ হাজার টাকার স্কিম। কলকাতায় আসা বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকরা বলছেন, আমরা আগেই বুঝেছিলাম নীতীশ কুমারকে হারানো মুশকিল।
বিহারের ভোটের দিনগুলোতে বাবুঘাট, মৌলালি এবং উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকা কার্যত ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা সকলেই সেইসময় ভোট দিতে গিয়েছিলেন ‘দেশে’। বাবুঘাটে বেগুসরাইয়ের বাসের টিকিট নিয়ে বসে এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘আমাদের ওখানে তো নীতীশ চলে এলেন। হবে না কেন? মদ বন্ধ করে দেওয়ায় মহিলারা খুব খুশি। তার উপর ১০ হাজার টাকাও পাচ্ছেন তাঁরা। তাহলে নীতীশকে ছেড়ে অন্যকে ভোট দেবেন কেন? আমার সব বন্ধুবান্ধবরা লণ্ঠনে ভোট দিয়েছেন। আর তাঁদের স্ত্রীরা ভোট দিয়েছেন নীতীশ কুমারকে।’ বলেই স্মার্টফোনে চোখ রাখলেন ভোটের খবর দেখতে। এদিন শহরে বসবাসকারী বিহারের বাসিন্দারা সকাল থেকে ফোনেই চোখ রেখেছিলেন। মাঝেমধ্যে ভারতের টেস্ট ম্যাচ দেখে নেওয়া। আর মাঝেমধ্যে ভোটের ফলাফলে চোখ রাখলেন তাঁরা। বাবুঘাট চত্বরেই মশলামুড়ি নিয়ে বসেন রাজেন্দ্র। সকাল থেকেই ভোটের ফলাফলে নজর রেখেছিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘বাড়ি বেগুসরাইয়ে। বাড়ি থেকে ফোন করে বলছে, সেখানে সর্বত্র উত্সব শুরু হয়েছে। এখানে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেউ হারাতে পারে না। তেমনি আমাদের ওখানে নীতীশ কুমার।’ আবার ট্যাক্সি চালাতে চালাতে ফুরসত পেলেও একটু ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন মনোজ। বলছিলেন, ‘আমি এবার ভোট দিতে যাইনি। শরীর ভালো ছিল না। কিন্তু রেজাল্ট দেখছি। আমার বউ তো খুব খুশি। বলছে, মদ বন্ধই থাকবে।’
এদিকে, অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় এনডিএ জোটের জয়ের উদযাপন শুরু হয়েছে। ভাটপাড়ায় অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মীরা আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন। মিষ্টি বিতরণও হয়েছে সেখানে। একেবারে আলো জ্বালিয়ে বিজয় মিছিলও করেছেন তাঁরা। এদিন রাতেই নৈহাটি, কাঁচরাপাড়ায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ঢাক-ঢোল নিয়ে মিছিল করেন। সেখান থেকে লাড্ডু বিতরণও করা হয়।