সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সেনা ভবনের সামনেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে উদ্যোগ ভবন। দিল্লির সরকারি অফিস পাড়ার অন্যতম আইকন। পাশেই নির্মাণ ভবন। গত ৬২ বছর ধরে অটল। কিন্তু আর মাত্র কয়েকটা দিন। গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে দু’টি বিল্ডিংই। হারিয়ে যাবে চেনা ছবিটা। নির্মাণ ভবন ভাঙার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে আটতলা বাড়িটি। এখানেই ছিল নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্যমন্ত্রক, গ্রামোন্নয়ন, সিপিডব্লুডির মতো ১৩টি দপ্তর। সাতটি ভাগে ছিল মন্ত্রকের অফিস। ছিল দু’টি ব্যাঙ্ক, ডাকঘরও।
এই বাড়িতেই বসতেন করণ সিং, সুষমা স্বরাজ, গুলাম নবি আজাদ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনেশ ত্রিবেদি থেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রসাদ নাড্ডার পাশাপাশি বুটা সিং, মহসিনা কিদোয়াই, রাম জেটমালানি, জয়পাল রেড্ডি, কমলনাথ, বেঙ্কাইয়া নাইডু, সৌগত রায়ের মতো মন্ত্রীরা। স্মৃতি বিজড়িত সেই বিল্ডিংই ধুলোয় মিশে যাচ্ছে হচ্ছে ধুলিসাৎ। এখানেই হবে নতুন কেন্দ্রীয় সচিবালয়—বিল্ডিং ৮ এবং ৯। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে কৃষি, শাস্ত্রী, উদ্যোগ এবং নির্মাণ ভবন—সরকারি চার বিল্ডিংই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ভাঙাগড়ায় খরচ হবে ৩ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। অথচ ভাঙার কাজে বরাত পাওয়া বেসরকারি কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার অতুল শ্রীবাস্তবের কথায়, শুধু কার্নিশের অবস্থা খারাপ হয়েছিল নির্মাণ ভবনের। বাকি সব মজবুত ছিল। সংস্কার করলেই কমপক্ষে আরও ৫০ বছর চলত।
নির্মাণ ভবনে প্রবেশে আর অনুমতি মেলে না। তারই মধ্যে ভিতরে ঢুকে দেখা গেল, কঙ্কাল বের করে ফেলা হয়েছে বিল্ডিংটার। বাইরে সতেরোটি বুলডোজার দাঁড়িয়ে। ডাইনোসরের মতো। বিল্ডিংজুড়ে শুধু বাঁদরের চিৎকার। শুধু বিল্ডিংই নয়, নিম, আম, দেবদারু, পলাশের মতো পুরানো বিশাল গাছগুলিও কেটে ফেলা হবে। মৌলানা আজাদ রোডের এই দুই ভবনের লাগোয়া ফুটপাতে এনডিএমসি’র আটটি দোকানও তুলে দেওয়া হবে।
লালবাহাদুর শাস্ত্রীর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় থেকে বংশ পরম্পরায় সেখানে ব্যবসা করছেন সুরেশ কুমার, রাহুলরা। সরকারের পদক্ষেপে মাথায় হাত তাঁদের।
চা, বিস্কুট, শিঙাড়া, টোস্ট-ওমলেট, প্যাটিস, ক্রিমরোল, পকোড়া, জল, চিপস, চকোলেট—সবই মেলে এই দোকানে। দুই ভবনের সরকারি কর্মচারীরা তো বটেই, সামনের বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত ২১টি রুটের বাসযাত্রীরাও ভিড় জমাতেন দোকানগুলিতে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির ‘সৌজন্যে’ সব শেষ। কর্মহীন দোকানিরা। উলটোদিকের কোণেই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয়। সেবা তীর্থ-নাগরিকদেবঃ ভবঃ। তাই নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এলাকার দোকানও তুলে দেওয়া হবে। নোটিস এল বলে! -নিজস্ব চিত্র