নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য পিএইচই-র তরফে জায়গায় জায়গায় মাটি খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে গেলেও সেই রাস্তা সারানোর উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। একদিকে এর জেরে শহরজুড়ে রাস্তাগুলি বেহাল হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে জমে থাকা মাটিতে ভরে যাচ্ছে শহরের নিকাশি নালা। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হল কুপার্স নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি।প্রায় তিন বছর ধরে কুপার্স শহরে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল পৌঁছে দিতে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের কাজ চলছে। সেই কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা কেটে পাইপ বসানো হয়েছে। কিন্তু পাইপ বসানোর পর অধিকাংশ জায়গাতেই রাস্তা আগের অবস্থায় ফেরানো হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফলে গলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক, সর্বত্র খানাখন্দ, মাটির স্তূপ আর বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, কোথাও দোকানের সামনে, কোথাও বাড়ির দরজার মুখেই রাস্তা ভেঙে পড়ে রয়েছে। বর্ষার সময়ে জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নিত্যদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে মানুষকে। পাশাপাশি খোঁড়া মাটি ও বালি নিকাশি নালায় পড়ে জল নামার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমছে এলাকায়।পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কুপার্স নোটিফায়েড পুরসভা এলাকায় মোট ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। পানীয় জল প্রকল্পের কাজ দুই পর্যায়ে হচ্ছে। একদিকে মূল পাইপলাইন বসানোর দায়িত্বে পিএইচই-র আর্সেনিক ডিভিশন, অন্যদিকে বাড়ি বাড়ি সংযোগ দেওয়ার কাজ করছে নদীয়া ডিভিশন। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি বাড়ি সংযোগের ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় রাস্তা মেরামত করা হলেও পাইপ বসানোর পর অধিকাংশ রাস্তাই সংস্কার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এই সমস্যা নিয়ে পুরসভা ও পিএইচই দপ্তরের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ও যৌথ পরিদর্শন হয়েছে। রাস্তা সংস্কার বা তার জন্য অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ অসহনীয় হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছে কুপার্স নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি।পুরসভার প্রশাসক দিলীপকুমার দাসের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পিএইচই দপ্তরের খোঁড়াখুঁড়ির জেরে শহরের রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, জেলার জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, অর্থ বরাদ্দের উপর নির্ভর করেই সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ শহরের ভাঙা রাস্তা ও নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র