Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আল কায়েদা মডিউলে হাই প্রোফাইল পেশার ব্যক্তি, ডোমকলে ধৃত ৬ জঙ্গির যোগ খুঁজছে এনআইএ

আল কায়েদা মডিউলে হাই-প্রোফাইল পেশার ব্যক্তি অনেক আগে থেকেই নিয়োগ করা হচ্ছে।

আল কায়েদা মডিউলে হাই প্রোফাইল পেশার ব্যক্তি, ডোমকলে ধৃত ৬ জঙ্গির যোগ খুঁজছে এনআইএ
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আল কায়েদা মডিউলে হাই-প্রোফাইল পেশার ব্যক্তি অনেক আগে থেকেই নিয়োগ করা হচ্ছে। ২০২০ সালে আল কায়েদা জঙ্গি সন্দেহে  ডোমকলের ৬ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা এখন জেলবন্দি। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডেও তাদের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। জেলে গিয়ে ওই ছ’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ধৃত ছ’জনের মধ্যে একজন ছিল লিউ ইয়ান আহমেদ। ডোমকল কলেজ থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভোকেশনাল কোর্সে পড়ার পর ওই কলেজই ক্যাজুয়াল ষ্টাফ হিসেবে জয়েন করে সে। তার সঙ্গে আল কায়েদার প্রত্যক্ষ যোগসূত্র পেয়েছিল তদন্তকারীরা। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় স্টিলের বিশেষ বর্ম। যা গুলি এবং বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। নিজেই সেই অভিনব জ্যাকেট উদ্ভাবন করেছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের। পাশাপশি, তার কলেজেরই বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষে কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করত জঙ্গি সন্দেহে ধৃত ছাত্র নাজমুস সাকিব। এছাড়া আবু সুফিয়ান, মইনুল মণ্ডল, আল মামুন কামাল ও আতিউর রহমানকে হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের সঙ্গে আল-কায়েদার যোগসূত্র পেয়েছিল গোয়েন্দা আধিকারিকরা। 

Advertisement

বাংলাদেশ লাগোয়া মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমার এখনও দীর্ঘ সীমান্ত কাঁটাতার বিহীন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ থেকে আল কায়েদার শীর্ষ নেতাদের এ পারে ঢুকিয়ে শেল্টার দেওয়া এবং সংগঠনে অর্থ যোগানের কাজ করত গ্রামের এই যুবকরা। বছর পাঁচেক আগে এমন নানাবিধ অভিযোগে ডোমকল, রানিনগর ও জলঙ্গি থানা এলাকা থেকে ওই ছ’জন যুবককে জালে তোলে এনআইএ। একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ আল মামুন কামালকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এনআইএ। তার কাছ থেকে পাওয়া যায় বেশ কিছু নথিপত্র। ভিন রাজ্য থেকে মাদ্রাসা তৈরির নামে মোটা অংকের অর্থ সে আদায় করেছিল বলে জানতে পারেন গোয়েন্দারা। তাঁদের দাবি, সেসময় দক্ষিণ ভারতের একটি রাজ্য থেকে এলাকায় মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য চাঁদা তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি ডোমকল মহাকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদ্রাসা ও মসজিদে স্থাপনের জন্য চাঁদা তুলত মামুন। মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রীর কাজের নাম করে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিত সে। এমনকী গ্রেফতার হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে এক সময় ছ’মাস জলঙ্গি থানার গাড়িও চালিয়েছে মামুন। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ৬-৭ জন করে যুবক তার বাড়িতে গোপন বৈঠকে আসত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানতেন, ধর্ম নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। কিন্তু পরে জানা যায়, গোপন বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল জঙ্গি কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়া। একই রকমের মডিউলে দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আল কায়েদা। ফলে পুরনো এই জঙ্গিদের ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে এনআইএ। এমনটাই জানা হিয়েছে গোয়েন্দা সূত্রে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ