নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ছন্দে পর্যটন শিল্প। কালীপুজো ও দীপাবলির ছুটিতে পাহাড়মুখী পর্যটকরা। এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার থেকে ফের বন্ধ করা হল ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। আগামী চারদিন শিলিগুড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহাসড়ক দিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে না কালিম্পং ও সিকিমে। পর্যটনের মরশুমে এতে ব্যবসার লোকসান, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। তা হলেও বিষয়টি মানিয়ে নিচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা। একইসঙ্গে তাঁরা স্থায়ী সমাধান চাইছেন। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সমান্তরাল বিকল্প সড়ক তৈরির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
উৎসবের মরশুমে পাহাড়ে ঢল নামে পর্যটকদের। সপ্তাহ খানেক আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পাহাড় ও ডুয়ার্সের একাংশ। সেই সময় প্রশাসন পর্যটকদের দুর্যোগ কবলিত এলাকা থেকে নিরাপদে উদ্ধার করে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কালীপুজো ও আলোর উৎসব দীপাবলির মুখে ফের ছন্দে পর্যটন শিল্প। হোটেল, হোমস্টে ও রিসর্টে বুকিংয়ের হিড়িক। এমন অবস্থায় সংস্কারের জন্য এদিন কালিম্পং-সিকিমগামী জাতীয় সড়ক বন্ধ করেছে এনএইচআইডিসিএল। তা বন্ধ থাকবে ১৬ তারিখ পর্যন্ত।
পর্যটকদের অভিযোগ, শিলিগুড়ি থেকে ঘুরপথে কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ট্যুর অপারেটর সম্রাট সান্যাল বলেন, এতে পর্যটন শিল্পে প্রভাব পড়বে। ব্যবসায় লোকসান হবে। তা হলেও চারদিন মানিয়ে নিচ্ছি। পর্যটকদের বুঝিয়ে ট্যুরগুলি ঘুরপথে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বছর খানেক আগে ধস ও তিস্তা নদীর ছোবলে বিধ্বস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্যের কাছ থেকে নিয়ে সেই দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থা এনএইচআইডিসিএল’কে দেওয়া হয়। পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজ্যের থেকে দায়িত্ব নিলেও, রাস্তা বন্ধের সংস্কৃতি দূর করতে ব্যর্থ কেন্দ্র। সম্রাটবাবু বলেন, পর্যটনের ভরা মরশুমে সংশ্লিষ্ট মহাসড়ক বন্ধ রাখার ঘটনা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু রাস্তা বন্ধের সংস্কৃতি দূর করার জন্য স্থায়ী সমাধান চাই। পাশাপাশি সমান্তরাল আরএকটি রাস্তা তৈরির দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এনএইচআইডিসিএল কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। কালিম্পং
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড় কেটে সংশ্লিষ্ট সড়কের
কিছু এলাকায় সম্প্রসারণ করবে এনএইচআইডিসিএল। এছাড়াও মেরামত হবে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত
কিছু এলাকা।