Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে সংস্কারের পর নবরূপে রক্তকরবী সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধন

নিজের অভিনীত ছবির গান গেয়ে রামপুরহাটের নবরূপের রক্তকরবী সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধন করলেন তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়।

রামপুরহাটে সংস্কারের পর নবরূপে রক্তকরবী সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধন
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নিজের অভিনীত ছবির গান গেয়ে রামপুরহাটের নবরূপের রক্তকরবী সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধন করলেন তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়। সাংসদ হওয়ার পর এই প্রথম বীবভূমে কোনও অনুষ্ঠানে এসে গান গাইলেন শতাব্দী। তাঁর গান শুনে করতালিতে ভরে ওঠে নবনির্মীত মঞ্চ। এই মঞ্চে একক কবিতা অনুষ্ঠানও করার কথা ঘোষণা করেন সাংসদ। 

Advertisement


দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে মঙ্গলবার। ২০১৭ সালে রক্তকবরী মঞ্চ আধুনিক মানের করার কাজ শুরু হয়। ব্যয় ধার্য হয় প্রায় ন’ কোটি টাকা। সাংসদ শতাব্দী রায় ৬৬ লক্ষ ও পুরদপ্তর প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দেয়। সেই টাকায় মঞ্চের উপরের টিন বদলে অ্যাসবেসটস বসানো, অডিটোরিয়ামের চার দেওয়াল ছাড়াও সিলিংয়ে উন্নত মানের ম্যাগনেসিয়াম বোর্ড, ব্যালকনি, সেন্ট্রাল এসি ও বাইরের লুক পরিবর্তন করা হয়। এরপরই অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সংস্কার। দীর্ঘ আটবছর অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল রক্তকরবী। মঞ্চের অভাবে শহরের সাংস্কৃতিক চর্চাও তলানিতে এসে ঠেকেছিল। এই নিয়ে প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন শহরের নাগরিকদের একাংশ। অর্থ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে পুরমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন বিধায়ক ও চেয়ারম্যান। গত বছরের জানুয়ারি মাসে বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রক্তকরবীর বিষয়টি তুলে ধরেন শতাব্দী রায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ইউডিএমএ থেকে দু’ কোটি টাকা অনুমোদন করেন। যার মধ্যে এক কোটি টাকা মেলে। গত জুন মাসে শতাব্দী রায় তাঁর এমপি ল্যাড থেকে ফের ৯৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন। পরবর্তীতে ফিফটিন ফিনান্স কমিশনের ৫১ লক্ষ টাকায় ও পুরসভা ধার দেয় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। সেই টাকায় সোলার সিস্টেম বাদে সব কাজ হয়। 


মঙ্গলবার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে ও গান গেয়ে নবরূপে রক্তকরবীর উদ্বোধন করেন শতাব্দী রায়। উপস্থিত ছিলেন বোলপুর বিধায়ক অসিত মাল, বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত, এসডিপিও গোবিন্দ শিকদার, আইসি পুলক মণ্ডল সহ সব কাউন্সিলার ও সমাজসেবীরা। 


আশিসবাবু রক্তকবরীকে সম্পূর্ণতা দেওয়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় ও ফিরহাদ হাকিমকে ধন্যবাদ জানান। এই মঞ্চ বিনামূল্যে দেওয়া চলবে না। নইলে আবার মঞ্চ মুখ থুবড়ে পড়বে। যারা টিকিট বিক্রি করে অনুষ্ঠান করবেন, তাঁদের পুরো ভাড়াই দিতে হবে। যারা টিকিট ছাড়া করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় মিলবে বলে জানান তিনি।  
অন্যদিকে শতাব্দী রায় বলেন, দীর্ঘদিন এই সাংস্কৃতিক মঞ্চ বন্ধ থাকায় খুব খারাপ লাগছিল। শহরের মানুষের কাছে হাতজোড় কর ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। সাংসদ বলেন, এই মঞ্চটায় যা যা করার কথা ভেবেছিলাম, ততটা করা সম্ভব হয়নি। তবে মঞ্চটা সম্পূর্ণ রূপ পাওয়ায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এখানে একক কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান করার কথা ঘোষণা করেন। মঞ্চটাকে এমনই সুন্দর রাখতে রামপুরহাট তথা বীরভূমবাসীর কাছে আবেদন জানান। এরপরই তিনি তাঁর অভিনীত ছবির একটি গান গেয়ে রক্তকরবীর উদ্বোধন করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ