সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: লগ্ন ও পঞ্জিকা ধরে বৃহস্পতিবার রাতে ছাদনাতলায় চার হাত এক হয়েছিল। ধুমধাম করে বিয়ের পর বধূর বাড়ি ও বরপক্ষের লোকজন বউভাতের আয়োজনে ব্যস্ত। এপর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। বিপত্তি ঘটল শুক্রবার বাসি বিয়ের দিন। এদিন দুপুরে নববধূ বায়না ধরেছিল বিউটি পার্লারে যাবে। সেইমতো ভাইয়ের সঙ্গে যশোডাঙা বাজারের একটি পার্লারে সে যায়। এরপর থেকেই খোঁজ নেই বধূ রিঙ্কু বিশ্বাসের। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শামুকতলা থানার যশোডাঙা বিশ্বাসপাড়ায়। আচমকা নববধূর এই অন্তর্ধানে সম্মানহানি হওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন উভয় বাড়ির আত্মীয়স্বজনরা।
বিশ্বাসপাড়ার রতন বিশ্বাসের মেয়ে রিঙ্কুর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল দক্ষিণ মজিদখানার শামুকতলা রোডের বাসিন্দা বিদ্যুৎ মণ্ডলের সরকারি চাকুরে ছেলে বাবলু মণ্ডলের। বৃহস্পতিবার বিয়ে হয়েছিল দু’জনের। কিন্তু বাসি বিয়ের দিন আচমকা নববধূ বেপাত্তা হয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছে দুই পরিবার। শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত ও স্থানীয়দের পরামর্শে ওই বধূর বাবা রতনবাবু পুলিসের কাছে শুক্রবার রাতে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেছেন।
এদিকে, আজ রবিবার ছেলে বাবলুর বাড়িতে ছিল বউভাত। নিমন্ত্রিতদের জন্য মাছ, মাংস, মিষ্টি ও দই সহ যাবতীয় খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। নিমন্ত্রিত ছিল পাঁচশো জন। কিন্তু কনে উধাও হয়ে যাওয়ায় এখন নিস্তব্ধতা মণ্ডল পরিবারে। বিদ্যুৎবাবু বলেন, বউভাতে পাঁচশো জনকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। ছেলের বিয়েতে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় আমাদের ও ছেলের যে সম্মানহানি হল, তা কি আর ফিরে পাব?
এদিকে, ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বাবলু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বাবলুর বোন শিল্পী মণ্ডল সরকার বলেন, আমাদের যে সম্মানহানি হল, তা কোনওভাবেই মানা যায় না।
এদিকে, অভিযোগ পেয়েই পুলিস নিখোঁজ বধূ রিঙ্কুর খোঁজে এলাকায় চিরুণী তল্লাশি শুরু করেছে। পুলিসকে নববধূর মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মোবাইল সুইচড অফ। শামুকতলা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দে বলেন, নববধূর মোবাইল ফোনটি বন্ধ। ফোন ট্র্যাক করে তাঁর লোকেশন জানার
চেষ্টা চলছে।