Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘার হাসপাতালে গাফিলতির অভিযোগে সদ্যোজাতের মৃত্যু

দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সদ্যোজাত এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল।

দীঘার হাসপাতালে গাফিলতির  অভিযোগে সদ্যোজাতের মৃত্যু
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সদ্যোজাত এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল। শুক্রবার রাতে এই ইস্যুতে গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান শিশুর বাড়ির লোকজন ও আত্মীয়-পরিজনরা। বিক্ষোভে যোগ দেন স্থানীয়রাও। শেষমেষ দীঘা কোস্টাল থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, রামনগরের কঙ্কনেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা দেবী সেনাপতির  প্রসববেদনা ওঠায় বাড়ির লোকজন মঙ্গলবার তাঁকে দীঘা হাসপাতালে ভর্তি করান। বাড়ির লোকজনের বক্তব্য, চিকিৎসক প্রসূতিকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করেছিলেন। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে প্রসূতি নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে এক শিশুপুত্রের জন্ম দেন। পরে বাড়ির লোকজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের জানানো হয়, সদ্যোজাতের জ্ঞান না ফেরায় তাকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে এবং অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু পরে জানানো হয়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এরপরই বাড়ির লোকজন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসবের আগেই শিশুর  মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক-নার্সরা তাঁদের আগে থেকে কিছু জানাননি। শিশুটি মারা যাওয়ার পর গাফিলতির অভিযোগ চাপা দিতে চিকিৎসক-নার্সরা তাঁদের ভুল পথে চালিত করেছেন। এই অভিযোগ তুলেই তাঁরা এদিন বিক্ষোভে শামিল হন। 
প্রসূতির আত্মীয় সুমিতা বেরা, ভাসুর সত্য঩জিৎ সেনাপতি বলেন,  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে কোনওকিছুই আমাদের জানাল না কেন? যদি আগে সিজার করে দিত, তাহলে হয়তো কোনও সমস্যা ছিল না। আমরা সবসময় যোগাযোগ করে গিয়েছি আর তাঁরা আগাগোড়া নিজেদের গাফিলতি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এই ঘটনায় চিকিৎসক-নার্স সহ অন্যান্যরা দোষী। আমরা সুপারের কাছে এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছি। আমরা চাই, তদন্ত করে যারা দোষী, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা হোক। 
এবিষয়ে সুপার সন্দীপকুমার বাগ বলেন,  আমি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে যা রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে ওই প্রসূতি মৃত বাচ্চা প্রসব করেছেন। বাচ্চা মলত্যাগ করেছিল। সেই নোংরা জল কোনওভাবে মায়ের মুখে চলে যায়। কোনওভাবে গলায় নাড়ি পেঁচিয়ে গিয়েছিল। এই সমস্ত কারণে মরা বাচ্চা প্রসব হয়। বাড়ির লোকজন আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। 
তাঁর কথায়, শিশুটির  দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত করছি ও সবকিছু খতিয়ে দেখছি। কারও কোনও গাফিলতির  অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে সেইমতোই পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ