নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: পাঁচ বছর পর স্থায়ী উপাচার্য পেল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার দুপুরে নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন অধ্যাপক আশিস ভট্টাচার্য। বুধবারই তিনি মুলতুবি হয়ে যাওয়া স্নাতকোত্তর স্তরের দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। এরপর একে একে তালিকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দীর্ঘ আট বছর ধরে আটকে থাকা সমাবর্তন অনুষ্ঠান ও ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন সহ অন্যান্য বিষয়।
এদিন উপাচার্য হিসেবে হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আশিসবাবু বলেন, সহকর্মী অধ্যাপক অধ্যাপিকা আধিকারিক ও ছাত্রছাত্রীদের শুভকামনা নিয়ে আমি আমার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু করলাম। আমি ধন্যবাদ জানাই আচার্য এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁরা আমাকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ্য বলে মনে করেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
স্থায়ী উপাচার্য না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থমকে ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট মিটিং হয়নি। যার ফলে এখানে সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা যায়নি। এদিকে সমাবর্তন অনুষ্ঠান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের সার্টিফিকেট দেওয়া যায়নি। অগত্যা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছিল তাঁদের।
নতুন উপাচার্য আরও বলেন, ভালোমন্দ মিশিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমি প্রথমেই বলছি আমার কোনও ভয় নেই। আমি ভয় পাই না। এই কথাটা উঠে এসেছে যে দুর্ভাগ্যবশত গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম এবং দুর্নাম একই সঙ্গে চলে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকেই আমি তার কিছুটা আভাস পেয়েছি।
এদিন উপাচার্য তাঁর প্রথম বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরির বার্তা দেন। এছাড়াও শিক্ষাঙ্গণে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা, অকারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ বন্ধ করা, প্রয়োজনীয় কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে ফি কমানোর বিষয়েও আলোচনা করা হবে বলে জানান উপাচার্য। নতুন উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা। -নিজস্ব চিত্র