সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, আধিকারিক ও অধ্যাপকদের আশার আলো দেখালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। শান্তিনিকেতনের পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ফের চালু করা যায় কি না, সেই বিষয়টি বিবেচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন উপাচার্য। তার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়টিও এই কমিটি দেখভাল করবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। ওই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের যুক্ত করা হয়েছে। মোট চারটি বিষয়ে নজরদারি করবে কমিটি। তার মধ্যে প্রবীণদের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টিও রয়েছে। প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমল থেকে সেই পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। এখন কমিটি কী রায় দেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে অবসরপ্রাপ্তরা। তাঁরা উপাচার্যের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বভারতীর সকলস্তরের কর্মী, আধিকারিক, ছাত্রছাত্রী, এমনকী, অবসরপ্রাপ্তরাও চিকিৎসার সুযোগ পেতেন। জরুরি ক্ষেত্রে স্থানীয়রাও সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন।
কিন্তু, বিদ্যুৎবাবুর আমলে সেই প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। অবসরপ্রাপ্তদের জন্য হাসপাতালের দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বহুবার আর্জি জানিয়েও বিদ্যুৎবাবুর মনোভাবকে টলানো যায়নি। তাঁর সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনরা অত্যন্ত হতাশ হয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা যায় কি না, সেবিষয়ে নতুন উপাচার্য বিশ্বভারতীতে যোগদানের পরপরই আলোকপাত করেন।
পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা খতিয়ে দেখে তার সমাধানের সুপারিশও করবে ওই কমিটি। তার প্রেক্ষিতে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই কমিটি মূলত চারটি প্রধান বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে এবং তাদের মতামত জানাবে। প্রথমত, পেনশন ও সেই সম্পর্কিত বিভিন্ন অমীমাংসিত জটিল মামলা এবং আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
দ্বিতীয়ত, গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেস(জেম)-এর মাধ্যমে ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে কর্মরত স্থায়ী মাল্টি-টাস্কিং স্টাফদের রোগী পরিচর্যা ভাতা সংক্রান্ত বিষয়টির উপরও আলোকপাত করা হবে। চতুর্থত, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য হাসপাতালে বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা (ওপিডি) এবং এক্স-রে, ইসিজি, রক্ত, মল, মূত্র ইত্যাদি পরীক্ষার সুবিধার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব, ফিনান্স অফিসার, জয়েন্ট রেজিস্ট্রার(অ্যাকাউন্টস), জয়েন্ট ফিনান্স অফিসার-ইন্টারনাল অডিট, বিশ্বভারতী বোলপুর আদালতে নিযুক্ত আইনজীবী সন্দীপ মুখোপাধ্যায়, আইসিএআর-এর কৃষি ভবনের ডিরেক্টর(অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) বাম্পদ শর্মা সহ আরও দু’জন এই কমিটিতে রয়েছেন।
সদস্যদের ১৫দিনের মধ্যে সুপারিশ পেশ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপ বিশ্বভারতীর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা যায়।
উপাচার্যের এই সিদ্ধান্তে খুশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্তরা। অবসরপ্রাপ্ত সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, তুঘলকি জমানায় বিশ্ববিদ্যালয় নানা বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন উপাচার্য আমাদের দিকটি বিবেচনা করার জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, আমরা তাতে খুশি।