নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রেজিনগরে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। রেজিনগরের উত্তর কলোনির বাসিন্দা তৃণমূল বুথ সভাপতি প্রতীত পাল (৪৪) শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের প্রমাণ মিলছে বলে সরব বিজেপি। প্রতীতবাবু আগেই ছ’ জনকে চিহ্নিত করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় স্থানীয় বুথ সভাপতি প্রতীতবাবুর সঙ্গে বিজেপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক গন্ডগোল হয়। সেই সময়ে প্রতীতবাবুর বাবাকে আক্রমণ করা হয়। জখম হয়ে তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কলোনিতে প্রতীতবাবু এবং তাঁর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। এই ঘটনায় কুড়িজনের বেশি অভিযুক্তর নামে থানায় মামলা চলছে। তাঁরাই বেশ কিছুদিন ধরে প্রতীতবাবুকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছিল। মনে করা হচ্ছে, সেই মামলা থেকেই নিষ্পত্তি পেতেই অভিযুক্তরা মাস খানেক আগে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেয়। তবে পাকাপাকি সদস্যপদ গ্রহণ করেনি তারা। এদিকে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই স্থানীয়ভাবে বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত ছিল। পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত ভয় দেখাত তারা। খুনের হুমকিও দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মামলা না তোলায় গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় প্রতীতবাবু পলাশী থেকে যখন টোটো নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় তাঁর উপর হামলা করা হয়। তাঁকে ধারালো অস্ত্র ও শাবল দিয়ে কোপানো ও মারধর করা হয়। তাঁর মাথায় ও দেহের নানা জায়গায় আঘাত লাগে। মৃতের ভাই পরিতোষ পাল বলেন, যারা দাদাকে মেরেছে তারা সকলেই বিজেপি করত। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, মে মাসের শেষের দিকে অভিযুক্তরা সদলবলে তৃণমূলে যোগ দেয়। তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি আতাউর রহমানের হাত ধরেই তারা দলে যোগদান করে বলে অভিযোগ। খুনের পর থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও, এবার বিজেপি পাল্টা গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে এই খুন বলে দাবি করছে। যদিও তৃণমূলের বুথ সভাপতির মৃত্যুর পর একদিন কেটে গেলেও এখনও কোনও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি।



