Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিঙ্গুর থেকে মুর্শিদাবাদকে জুড়ে দিল নতুন ট্রেন, এসি লোকালে দ্বিতীয় কামরায় জল ভাড়া কমানোর দাবি যাত্রীদের

একদিকে, তুমুল উৎসাহ। অন্যদিকে, যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ, অসন্তোষ।

সিঙ্গুর থেকে মুর্শিদাবাদকে জুড়ে দিল নতুন ট্রেন, এসি লোকালে দ্বিতীয় কামরায় জল ভাড়া কমানোর দাবি যাত্রীদের
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একদিকে, তুমুল উৎসাহ। অন্যদিকে, যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ, অসন্তোষ। দুই বিপরীত ছবি আঁকড়ে সোমবার ছুটল রানাঘাট-শিয়ালদহ এসি লোকাল। অফিস টাইমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় গন্তব্যে পৌঁছে খুশি বহু যাত্রী। আর রেলের এই লোকাল পরিষেবায় নয়া ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে ভিনজেলা থেকেও যাত্রীরা রানাঘাটে এসে এসি ট্রেনে চেপে বসলেন। কেউ এসেছিলেন মুর্শিদাবাদ থেকে। কেউ আবার সিউড়ির বাসিন্দা।   

Advertisement

রবিবার এই নয়া ইতিহাস লিখেছিল শিয়ালদহ ডিভিশন। পূর্ব ভারতের প্রথম এসি লোকালের চাকা গড়ায় ঐতিহাসিক স্টেশন থেকে। উদ্বোধনের দিনে উৎসাহ-উদ্দীপনার অন্ত ছিল না যাত্রী সাধারণের মধ্যে। সোমবার থেকে শুরু হল বাণিজ্যিক যাত্রা। প্রথম দিনেই এসি কামরায় যাত্রা করতে সিঙ্গুর থেকে কাকভোরে রানাঘাট এসে পৌঁছন তপনকুমার রায়। তিনি রেলের বহু ইতিহাসের সাক্ষী। রাজধানীর ৫০ বছর, প্রথম বন্দে ভারত, হাওড়ার আন্ডার ওয়াটার মেট্রোর প্রথম দিন—সবই রয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে! তাই বাংলায় প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লোকালেও তিনি প্রথম সওয়ারি হতে চেয়েছিলেন। সেই কারণেই রানাঘাটে চলে আসা। তপনবাবু বলছিলেন, ‘বয়স হলেও এ জীবনে সব অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বোঝাই করে নিতে চাই। সেই অনেক ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রানাঘাট এসেছি। তবে রেলের কাছে আবেদন, এবার আমাদের হাওড়া ডিভিশনেও এই এসি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা হোক।’ এসি লোকালে চাপতে ২ ঘন্টা আগেই রানাঘাট এসে পৌঁছে যান মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ফারুক শেখ, সুরজ বরাটরা। তাঁদের কথায়, ‘কলকাতায় মেট্রো চেপেছি। কিন্তু এসি লোকালের যাত্রা করার মজা নিয়ে রানাঘাটে এসেছি।’ 
তবে, এই উচ্ছ্বাসের সুরে মিশল খানিক অসন্তোষের সুরও। এদিন দেখা গিয়েছে, চালকের কেবিনের পর দ্বিতীয় কামরার কিছুটা অংশজুড়ে থৈ থৈ করছে জল। কেন এরকম একটি প্রিমিয়াম ট্রেনের কামরায় জল জমে? প্রশ্ন তুলেছেন অনেক যাত্রী। তাঁদের বক্তব্য, রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ ভাড়া ১২০ টাকা। যা মোটেও কম নয়। তা হলে কেনই বা ভালো সুযোগ সুবিধা থাকবে না? এভাবে কামরায় জল জমে থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। প্রদীপ বিশ্বাস নামে এক যাত্রী আক্ষেপের সুরে বলছিলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! এরকম একটি ট্রেনে প্রথমদিন উঠেই দেখি কামরায় জল জমে। আশা করব, ভবিষ্যতে এমন ছবি যেন দেখতে না হয়।’ এসি ট্রেনের ভাড়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। রেলের কাছে তাঁদের আর্জি, ‘ভাড়াটা বেশ বেশি। আর একটু কমাতে পারলে ভালো।’ কলেজ পড়ুয়া শিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘৯০-১০০ টাকার মধ্যে ভাড়া হলে ভালো হতো বলে আমার মনে হয়েছে। সবার আয়ত্ত্বের মধ্যে থাকত। তবে যাই হোক, এই ধরনের ট্রেন আরও বাড়ুক, সেটাই চাইব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ