Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এ ‘তেল’, সে তেল নয়! খেলেই চোখে সর্ষে ফুল, গোয়েন্দা নজর এড়াতে গাঁজার নির্যাসে তৈরি, নেশায় বুঁদ যুবরা

ওড়িশার গজপতিতে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ‘তেল’। শুরুতেই নেশার জগৎ মাতিয়ে দিয়েছে এই তরল।

এ ‘তেল’, সে তেল নয়! খেলেই চোখে সর্ষে ফুল, গোয়েন্দা নজর এড়াতে গাঁজার নির্যাসে তৈরি, নেশায় বুঁদ যুবরা
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ওড়িশার গজপতিতে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ‘তেল’। শুরুতেই নেশার জগৎ মাতিয়ে দিয়েছে এই তরল। শুধু এরাজ্য নয়, বিহার, কর্ণাটক সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে কারবারিদের কাছে অর্ডার আসতে শুরু করেছে। এমন ‘ইনপুট’ আসার পর গোয়েন্দারাও ওঁত পাততে শুরু করেছেন। এই তেল ভোজ্য বা জ্বালানির কাজে ব্যবহার হয় না। গাঁজার সঙ্গে বিশেষ রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই তেল। পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই গাঁজা কারবারিরা এই রাস্তা নিয়েছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একটি সিনেমায় তরল গাঁজা পাচার দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সেটাও যে বাস্তবে হতে পারে, গোয়েন্দাদের এমন ধারণা ছিল না। কয়েকজন দাগি কারবারিকে ‘ট্র্যাক’ করে এমনই তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে।

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা থেকে দক্ষিণবঙ্গে সব থেকে বেশি গাঁজা ঢোকে। এছাড়া অসম ও কোচবিহার থেকেও তা আসে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ আধিকারিকরা এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দাগি কারবারি গ্রেফতার হয়েছে। গাড়ি বা ট্রেনে গাঁজা নিয়ে আসা হলে তা পুলিশের চোখে পড়ে যায়। তাই কারবারিরা এবার নয়া পন্থা নিয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, এরাজ্যের তুলনায় কেরলে অনেক বেশি দামে গাঁজা বিক্রি হয়। প্রায় তিনগুণ দামে সেখানে নেশার উপকরণ বিক্রি হয়। এরাজ্যের কারবারিরা সেই কারণে ‘তেল’ কেরলে পাঠিয়ে মোটা টাকার ফায়দা তোলার পরিকল্পনা করেছে। কয়েকদিন ধরেই তা আনার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তরল গাঁজা থেকে নেশা বেশি হওয়ার কথা। 
তদন্তকারীদের দাবি, যুবকদের পাশাপাশি যুবতীরাও গাঁজার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের অনেকে কারবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। কয়েকদিন আগে মেমারি থানার পুলিশ এক মহিলাকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি থেকে কয়েক কুইন্টাল গাঁ‌জা উদ্ধার হয়। ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে ছোট ছোট পুরিয়া করে সে বিক্রি করত। বর্ধমান স্টেশন থেকেও দু’জন মহিলা ক্যারিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তারা কোচবিহার থেকে গাঁজা নিয়ে আসছিল। আরপিএফ খবর পেয়ে বর্ধমান থেকে তাদের গ্রেফতার করে। ব্যাগ দেখে সন্দেহ হওয়ায় আরপিএফ তাদের জেরা করে।
তরল গাঁজা পাচার করা সহজ। বোতলে ভরেও তা আনা যেতে পারে। সেই কারণে নতুন পন্থায় কারবারিরা ব্যবসা শুরু করেছে। শুরুতেই সেই তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে চলে এসেছে। সেইমতো তাঁরা ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। কয়েকজন কারবারিকে তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। তাদের সকলেই ওড়িশার বাসিন্দা। তারা যাতে কোনওভাবেই ‘তেল’ পাঠাতে না পারে, তারজন্য গোয়েন্দারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ