Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিংড়ির মড়ক রোধে নয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিওফাজের সন্ধান, গবেষণায় সাফল্য মেদিনীপুর সিটি কলেজের

চিংড়ি চাষে বিপ্লব আনতে চলেছে রোগ প্রতিরোধী ভাইরাস ব্যাকটেরিওফাজ। মেদিনীপুর সিটি কলেজের একদল অধ্যাপক, গবেষক ব্যাকটেরিওফাজদের এমন একটি প্রজাতি চিহ্নিত করেছেন, যা চিংড়ির মড়ক প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

চিংড়ির মড়ক রোধে নয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিওফাজের সন্ধান, গবেষণায় সাফল্য মেদিনীপুর সিটি কলেজের
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: চিংড়ি চাষে বিপ্লব আনতে চলেছে রোগ প্রতিরোধী ভাইরাস ব্যাকটেরিওফাজ। মেদিনীপুর সিটি কলেজের একদল অধ্যাপক, গবেষক ব্যাকটেরিওফাজদের এমন একটি প্রজাতি চিহ্নিত করেছেন, যা চিংড়ির মড়ক প্রতিরোধে সহায়ক হবে। তাঁদের এই কর্মকাণ্ড  ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের গবেষক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন ট্যাক্সোনমি অব ভাইরাস’-এর তরফে আবিষ্কৃত প্রজাতিটিকে ভাইরাস বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ‘ভাইরোলজি’ জার্নালে সিটি কলেজের গবেষকদের গবেষণাপত্রটি জায়গা করে নিয়েছে। 

Advertisement

বাংলাজুড়ে এখন ধান চাষের জমি ভেড়িতে রূপান্তরের ধুম চলছে। বেশি মুনাফার লোভে সেইসব ভেড়িতে হচ্ছে চিংড়ি চাষ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভেনামি চিংড়ি চাষে ঝোঁক বেশি চাষিদের। কিন্তু, একবার ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হলেই সব শেষ! ভেড়ির পর ভেড়িতে মড়ক শুরু হয়ে যায়। মাথায় হাত পড়ে চাষিদের। সেই দুর্দিন থেকে মুক্তি দিকে নয়া প্রজাতির এই ব্যাকটেরিওফাজ মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলে মত বিজ্ঞানী মহলের। ফাজটির আক্ষরিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘এএইচপিএমসিসি-৭’। মেদিনীপুর সিটি কলেজের মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষাগারে ২০২৩ সালে ব্যাকটেরিওফাজের নতুন প্রজাতিটি সন্ধান মেলে। গবেষণার পুরোভাগে ছিলেন কলেজের অধ্যাপক তথা বিজ্ঞানী কুন্তল ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, নয়া ব্যাকটেরিওফাজটি মাল্টি ড্রাগ প্রতিরোধী অ্যারোমোনাস হাইড্রোফিলা নামক ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে মারতে সক্ষম। যেটি চিংড়ির লিটোপেনিয়াস ভেনামি রোগ সৃষ্টি করে। মড়ক লাগার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। জিনোম সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ প্রমাণ মিলেছে, অ্যারোমোনাস সংক্রমক ব্যাকটেরিওফাজ এএইচপিএমসিসি-৭ আহফুনাভাইরাসগণের একটি নতুন প্রজাতি। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন ট্যাক্সোনমি অব ভাইরাস সংস্থা পরীক্ষাগারে প্রাপ্ত ভাইরাসের প্রজাতিটিকে ২০২৫ সালে ‘নতুন প্রজাতি’ হিসেবে মান্যতা দিয়েছে। সংস্থার ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে। কুন্তলবাবু বলেন, ব্যাকটেরিওফাজ এএইচপিএমসিসি-৭ চিংড়ির রোগ সৃষ্টিকারী অ্যারোমোনাস হাইড্রোফিলার ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। যা চিংড়ি চাষে মড়ক লাগার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। নতুন গবেষণার কাজে এই স্বীকৃতি আমাদের আরও উৎসাহিত করবে। আমাদের কলেজের আর্থিক সাহায্য ছাড়া এই গবেষণার কাজ সম্ভব হতো না। কলেজের অধ্যক্ষ সুদীপ্ত চক্রবর্তী, পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা শ্রাবণী প্রধান গবেষণায় ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। আন্তর্জাতিকস্তরের স্বীকৃতিতে খুশি অধ্যাপক থেকে কলেজের পড়ুয়ারা।  
কলেজের কর্ণধার প্রদীপ ঘোষ বলেন, দেশীয় পরীক্ষাগারে এই ধরনের আবিষ্কার নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। ভাইরাসের উদ্ভাবন চিংড়ি চাষে মড়কের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, তা গবেষণার প্যারামিটারে প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণার কাজটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে। যা আমাদের সকলের কাছে গৌরবজনক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ