Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারণার পাশাপাশি প্রেমের জালও বিছিয়ে ছিল বর্ধমানের লাভজিৎ

বিখ্যাত কবি শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, নামে কী আসে যায়। কিন্তু অনেকেই এখন বলছেন, নামের মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেক কিছু। যেমন ধরা যাক, বর্ধমানের মির্জাপুরের লাভজিৎ সিংয়ের কথা।

প্রতারণার পাশাপাশি প্রেমের জালও বিছিয়ে ছিল বর্ধমানের লাভজিৎ
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিখ্যাত কবি শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, নামে কী আসে যায়। কিন্তু অনেকেই এখন বলছেন, নামের মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেক কিছু। যেমন ধরা যাক, বর্ধমানের মির্জাপুরের লাভজিৎ সিংয়ের কথা। তার যেমন নাম, তেমন গুণ। প্রতারণার পাশাপাশি সে প্রেমেরও জাল বিছিয়ে রেখেছিল। শুধু নিজের জেলা বা রাজ্যে তার গণ্ডি সীমাবদ্ধ ছিল না, সে পৌঁছে গিয়েছিল বিদেশে। দুবাইয়ে গিয়েও রমণীদের প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে নেয় সে। এমনকী, এক বিদেশিনীকে বিয়েও করে। সেই বিদেশিনী এখন পুলিসের স্ক্যানারে রয়েছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গেমিং অ্যাপ প্রতরণার টাকা ওই বিদেশিনীর কাছেও পাঠানো হয়েছে। তার কয়েকজন বান্ধবীর অ্যাকাউন্টেও টাকা জমা পড়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, লাভজিৎ সিং বড় ‘খেলোয়াড়’। বিদেশে টাকা পাচারের সঙ্গেও সে যুক্ত থাকতে পারে। আপাতত পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার পুলিস তাকে জেরা করছে। অন্য রাজ্যের বিভিন্ন থানার পুলিসও তাকে হেফাজতে নিতে মরিয়া। সে শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্টের টাকা সাফ করে বিদেশে পাঠিয়েছে।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতরণা করার জন্য এদেশে সে একটি গ্যাং তৈরি করেছিল। দুবাইয়ে বসে থেকে সে অ্যাকাউন্ট সাফ করত। সেই টাকা এদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। এই অ্যাকাউন্টগুলি খোলার কাজ করত তার গ্যাংয়ের সদস্যরা।
এই চক্রে বিদেশিনীর ভূমিকা কী? পুলিস জানিয়েছে, এই বিদেশিনী তার অন্যতম পরামর্শদাতা। তাছাড়া তার এক বন্ধুও তাকে সহযোগিতা করত। বিদেশিনী স্ত্রীকে সে কয়েক মাস আগে বাড়িতে এনেছিল। কয়েক দিন থাকার পর আবার তারা দুবাই ফিরে যায়। মালয়েশিয়াতেও সে মাঝেম঩ধ্যেই ঘুরতে যেত। ওই বিদেশিনী প্রযুক্তি বিদ্যায় পারদর্শী। প্রায় দু’বছর ধরে লাভজিত গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতরণা করেছে। কয়েক দিন আগে ভাতার থানা এলাকার এক যুবক সাইবার থানায় অভিযোগ করে। সে জানায় তার অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু সে এই বিষয়ে কিছুই জানে না। এরপরই সাইবার থানা তদন্তে নেমে জানতে পারে, লাভজিত এই কাণ্ডে যুক্ত। ততদিনে দিল্লিতেও তার নামে অভিযোগ হয়েছে। তবে সে দুবাইয়ে বসে থাকায় পুলিস তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছিল না। গত সপ্তাহে দিল্লিতে আসে। এয়ারপোর্ট থেকে বেরনোর পরই পুলিস তাকে পাকড়াও করে। তবে এ যাত্রায় সে একা এসেছিল। পুলিস তাকে টানা জেরা করেছে। তার কথায় অসঙ্গতি রয়েছে। অনেক তথ্যই সে আড়াল করছে বলে অভিযোগ। সে বিদেশে কত টাকা পাচার করেছে সেই তথ্য জানতে এখন আধিকারিকরা মরিয়া হয়ে রয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ