নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ইন্টারলকিং কংক্রিট ব্লক পেভমেন্ট (আইসিবিপি) পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির রাস্তা হতে চলেছে কুলটিতে। অতিভার বহনে সক্ষম রাস্তা গড়ে কোলিয়ারি এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সড়ক সঙ্কট মিটতে চলেছে। শুক্রবার দোলের দিনেই কুলটির মিঠানিতে এই রাস্তার কাজের সূচনা করেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত। রাধানগর হাটিয়া মোড় থেকে মিঠানি হয়ে এই রাস্তা হবে আসানসোলের বরতোড়িয়া পর্যন্ত। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ প্রায় ছ’কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা তৈরি করছে। একই দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কুলটির বিনোদবাঁধ থেকে রানিসায়ের ইস্কো বাইপাস পর্যন্ত রাস্তার কাজেও সূচনা হয় শুক্রবার।
মন্ত্রী বলেন, কুলটির ২৫টি গ্রামের মানুষ এই রাস্তাগুলি থেকে উপকৃত হবেন। এডিডিএর এই উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই কুলটিতে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতির সলতে পাকানো শুরু করে দিয়েছে শাসক শিবির। জানা গিয়েছে, শুধু এই দুই রাস্তাই নয়, আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কয়েক মাসের মধ্যে উদ্বোধন করে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবে এডিডিএ। সেই উন্নয়নকে ভোট বাক্সে ফেলার কাজ শুরু করে দিয়েছে শাসক শিবিরের নেতারা। কুলটি বিধানসভা আসনটি বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য ঘাসফুল শিবিরের। এডিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, শুধু কুলটি নয়, আসানসোল দুর্গাপুর রানিগঞ্জ সর্বত্র আমরা উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির রাস্তা অতিভার বহনে সক্ষম। মিঠানি থেকে বড়তোড়িয়া হয়ে আসানসোল যাওয়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই কঙ্কালসার দশায় ছিল। জিটি রোডের পরই কুলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি। বহু এলাকার মানুষ এই রাস্তার উপর নির্ভর করেন। আসানসোল-মিঠানি বাসের রুটও এই রাস্তা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তায় পিচের চিহ্ন ছিল না। তার উপর কোলিয়ারি এলাকার ভারী ভারী গাড়ি যাতায়াতের জেরে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল। নিত্যদিন দুর্ঘটনা ঘটত, বাসরুট বন্ধ হয়ে যায় বেহাল রাস্তার জন্যই। এনিয়ে কুলটি বিধানসভা এলাকার বহু মানুষের ক্ষোভ ছিল। এবার সেখানেই অত্যাধুনিক রাস্তা গড়ার কাজ শুরু করে দিয়ে মানুষের ক্ষোভে জল ঢালল শাসক শিবির।
একই অবস্থা ছিল বিনোদবাঁধ এলাকার। ইস্কো বাইপাস চলাচলের মূল রাস্তা। কিন্তু সেখান থেকে এই এলাকায় আসার কার্যত কোনও রাস্তা ছিল না। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সেই রাস্তাও করে দিচ্ছে এডিডিএ। এডিডিএর ভাইস চেয়ারম্যান তথা কুলটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি বিধায়ক থাকার সময়ে রাস্তাটি করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তারপর এখানে বিজেপি জয়লাভ করে। এলাকায় তারা কোনও উন্নয়ন করতে অগ্রসর হয়নি। পরে এডিডিএ চেয়ারম্যানকে সমস্যাগুলি বলতেই উনি রাস্তা তৈরি করতে উদ্যোগী হন। আরও বেশ কয়েকটি রাস্তা আমরা এডিডিএর মাধ্যমে করব। কুলটির মানুষ বুঝেছেন, এলাকায় উন্নয়নের জন্য তৃণমূলের জয় কতটা প্রয়োজন।
কুলটির বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার বলেন, উনি তিনবারের বিধায়ক, দীর্ঘদিন কুলটি পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তারপরও এতদিন রাস্তা না থাকাটা ওঁর ব্যর্থতা।