সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনিতে বাঁধ নির্মাণ ঘিরে ফের বিতর্ক। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে মাটি তোলার নামে আরেকটি ‘নদী’ তৈরি করা হচ্ছে। ফলে বর্ষায় জল ভরে কী পরিণতি হবে, সেকথা ভেবে ঘুম উড়েছে স্থানীয় ৪০টি পরিবারের। তাঁদের দাবি, বাঁধের কাজে ব্যবহৃত মাটি কাটা হচ্ছে ঢিল ছোড়া দূরত্বে। তার পাশেই রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম। প্রায় ১০০ মিটার লম্বা ও ৩০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে চলছে বাঁধ নির্মাণের মাটি তোলার কাজ। ইতিমধ্যেই জল জমেছে সেই বিশালাকার গর্তে। শিশুরা তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অভিভাবকদের। ভূতনির কেশরপুর কালুটোনটোলা এলাকায় জোরকদমে চলছে রিং বাঁধ নির্মাণ। রায়তি জমির সমস্যা মিটিয়ে বর্ষার আগে কাজ শেষ করার তোড়জোড় শুরু করেছে সেচ দপ্তর। তারমধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হল বাঁধ নির্মাণে ব্যবহৃত মাটি নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশরপুরে বাঁধ নির্মাণের জায়গার পাশেই রয়েছে চামাগ্রাম। যেখানে বাস করে ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো প্রায় ৪০টি পরিবার। তার ঠিক পাশেই মাটি খুঁড়ে বাঁধের জন্য মাটি তোলা হচ্ছে আর্থ মুভারের সাহায্যে। এলাকাবাসীরা প্রথম দিকে এখানে মাটি তুলতে বাধা দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী ভয় দেখানোয় তাঁরা মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। তারপর থেকেই চলছে বেপরোয়াভাবে মাটি তোলা। গত কয়েকদিন গর্তে জমেছে বৃষ্টির জল। এখনই সেটি নদীর আকার নিয়েছে। স্থানীয় গৃহবধূ ফুদিয়া মাহাতো বলেন, যেভাবে গর্ত করা হয়েছে, সেখানে পড়ে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।
যদিও ঠিকাদারি সংস্থার দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা মাটির ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তাঁরা কোথায় থেকে মাটি দিচ্ছেন, সেটা ঠিকাদার সংস্থা জানে না। ট্রাক্টর প্রতি মাটির টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
যদিও বাসিন্দারা সেকথা মানতে নারাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার কথায়, ঠিকাদার এবং স্থানীয় কয়েকজন ‘বাহুবলী’ মোটা টাকার বিনিময়ে মাটি বিক্রি করছেন। কিছু বললেই পুলিসে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাই নিজেদের বিপদ হবে দেখেও চুপচাপ দেখে যাওয়া ছাড়া রাস্তা নেই। সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি জানা নেই। শনিবার এলাকা পরিদর্শনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র