দীপন ঘোষাল, কল্যাণী: পথ দেখাল বাংলা। মাত্র ১২০ দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যাবে ধান! শুষ্ক এলাকাতেও অল্প জলে যেমন চাষ করা যাবে, তেমনই শীতের মরশুমে কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে অল্প রোদে একই ফলন মিলবে এই বিশেষ প্রজাতির ধানচাষে। দীর্ঘ ১৫ বছরের গবেষণার পর অবশেষে সরকারি স্বীকৃতি পেল বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত নতুন ধানের জাত মঙ্গলা বা বিধান ধান ২৪। বাংলাতেই আবিষ্কার এই বিশেষ প্রজাতির ধান দেশের আরও ১৬টি রাজ্যে চাষের ছাড়পত্র পেয়েছে। আগামী দিনে কৃষকদের জন্য গেমচেঞ্জার হতে পারে ওই নতুন প্রজাতির ধান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কেন্দ্রীয় সরকারের গেজেটে এই আবিষ্কারের বিষয়টি ছাপা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ফলনদায়ী এই ধানকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও
রয়েছে ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, তামিলনাড়ু, কেরল, কর্ণাটক, পুদুচেরি, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে চাষের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
একাধিক চালের গুণাগুণ শঙ্করায়ন করে তৈরি এই মঙ্গলা বা বিধান ধান ২৪ এর বিশেষত্ব কী? জেনেটিক্স ডিপার্টমেন্টের দাবি, বর্তমানে বাংলা এবং সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বাধিক চাষ হয় ‘লাল স্বর্ণ’ প্রজাতির ধান। কিন্তু, সেই চাষ করতে সময় লাগে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০দিন। ফলে শীত অল্প সময় থাকার কারণে পরবর্তী রবিশস্য যেমন সরষে অথবা বিভিন্ন ধরনের ডাল চাষের জন্য সময় পাওয়া যায় না। কিন্তু, এই বিধান ধান তার বৈচিত্রের কারণে মাত্র ১২০ থেকে ১২৫ দিনেই তোলার উপযোগী হয়ে যায়।
খরিফ ও বোরো, দু’টি মরশুমেই চাষ করা সম্ভব। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৮ টন। চালের গুণগত মানও ভালো। এছাড়াও রোগপোকার দিক থেকেও এই জাত বেশ শক্তপোক্ত। পাতা ঝলসা, নেক ব্লাস্ট, বাদামি দাগের মতো রোগের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি গাছফড়িং ও মাজরা পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
যেহেতু বর্তমানে প্রচলিত স্বর্ণধানের চেয়ে ৩০ দিন আগেই কাটার উপযোগী হয়ে যাবে এই ধান। তাই সঠিক সময়ে রবিশস্য যেমন ডাল, তেলবীজ, আলু বা সবজি চাষ করা সম্ভব হবে। বাড়তি সময় পাওয়ার জন্য ফলনও বাড়বে। অর্থাৎ একই জমিতে বেশি চাষ করে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অশোককুমার পাত্র বলেন, কম সময়ে বেশি ফলন, নানা ধরনের জমিতে চাষের উপযোগিতা এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে ‘বিধান ধান–২৪’ আগামী দিনে কৃষকদের জন্য গেমচেঞ্জার হতে পারে। খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতেই এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আমাদের জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং তাঁর সহযোগী দলের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল এটি। মঙ্গলা বা বিধান ধান ২৪