নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মদেও ভেজাল! ধরপাকড়ের জেরে চোরাকারবারিদের দাপট অনেকগুণ কমলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। ফলে হুবহু আসলের মতো দেখতে নকল মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে। রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে ধরা পড়েছে অসাধু চক্রের পান্ডারা। উদ্ধার হয়েছে নকল মদ। এবার এই চোরাকারবারিদের দাপাদাপি বন্ধ করে দিতে কোমর বেঁধে নামল রাজ্য আবগারি দপ্তর। কিন্তু কীভাবে এই সমস্যায় ইতি টানতে চাইছে সরকার? এবার থেকে প্রতিটি মদের বোতলের উপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে—কোথায় তা তৈরি? কোন গাড়িতে করে প্রথমে ডিপোয় পৌঁছেছে? সেখান থেকে কোন দোকানে পাঠানো হয়েছে? এমনকি যে দোকান থেকে বিক্রি হয়েছে তারও খুঁটিনাটি তথ্যাদি।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হলোগ্রামের উপর যে কিউআর কোড থাকে এখন সেটা স্ক্যান করলে শুধু দেখা যায়—সেটি কোন ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে তৈরি হয়েছে। ফলে উৎপাদন স্থল থেকে দোকানে আসার মাঝের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। সেসব থাকলে আসল আর নকলের মধ্যে ফারাক করা আরো সহজ হয়ে যাবে। মত প্রশাসনিক মহলের। এর ফলে চোরাকারবারিদের পক্ষে আর বাজারে নকল মদের বোতল চালান করা সম্ভব হবে না। কারণ, যে বাক্সে বোতলগুলি প্যাক হয়ে সরবরাহ হয়, তাতেও এবার থেকে একটি করে কিউআর কোড দেওয়া থাকবে। তার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে বোতলে থাকা কিউআর কোড। আবার প্রতিটি বাক্সের নির্দিষ্ট নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে ই-ট্রান্সপোর্ট পাশকেও। ফলে যে গাড়িতে সরবরাহ হচ্ছে, তার ঠিকুজি কোষ্ঠীও বেরিয়ে আসবে নিমেষের মধ্যে। চোরাকারবারের জন্য রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা থাকে। এই ব্যবস্থা চালু হলে রাজ্যে আবগারি খাতে রাজস্ব বাড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের। দেশে তৈরি বিদেশি মদ বা দেশি মদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না-থাকলেও বিয়ারের ক্ষেত্রে এখনই এই পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবেশী কোনো রাজ্যে উৎপাদন দেখানো নকল মদ ধরা পড়লেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে প্রমাণ করা সম্ভব হবে যে, তা আসলে এখানে তৈরি নয়।
অন্যদিকে, গরম পড়তেই বিয়ারের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। তাই এখন থেকেই বিয়ারের স্টক বৃদ্ধির পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রস্তুতকারকদের বলা হয়েছে—অন্তত ১৫ লক্ষ কেস বিয়ার মজুত রাখতে। একেকটি কেসে ১২টি বোতল থাকে। রাজ্যে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লক্ষ কেস বিয়ার বিক্রি হয়।