নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার মমতা। আজ, রবিবার হালিশহরে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হলেন তিনি। অভিযোগ, এদিন হালিশহরে যাওয়ার পথে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর গাড়িতে ছোড়া হয় কাদা-চটি-ইট। দেওয়া হয় চোর চোর স্লোগান। এমনকী তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন। তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, হালিশহর থানায় আমাদের দলীয় কর্মীকে লকআপের মধ্যে অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা আসব বলেছিলাম, এসেছি। নিহত দলীয় কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। এরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছুই আর নেই। এলাকার বিজেপি বিধায়ক তাঁদের বাড়ি এসে ভয় দেখিয়ে গিয়েছে। বেরোতে নিষেধ করেছে। এরপরই শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে মমতা বলেন, বাংলা লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। অদ্ভূতভাবে তাঁদেরই নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, কাদা ছোড়া হয়েছে। আপনারা গাড়ির অবস্থা দেখুন। আমার মাথা ফেটে যেত। আমি মরে যেতে পারতাম। অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা মামলা করব। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো বক্তব্য রাখা হয়নি। অপরদিকে বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হালিশহরে উস্কানি দিতেই এসেছেন। সেই ঘটনারই প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকারা সাধারণ মানুষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, বিজেপির কোনো কর্মীই এই বিক্ষোভে ছিলেন না।
প্রসঙ্গত, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগের জেরে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামী বিরজুকে গ্রেপ্তার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। এরপর গত শুক্রবার তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক ধৃতকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু গতকাল অর্থাৎ শনিবার সকালে পুলিশি হেফাজতেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বিরজুকে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, পুলিশি হেফাজতেই পিটিয়ে মারা হয়েছে বিরজুকে। সেই ঘটনার পর আজ, রবিবার মৃতের বাড়িতে তাঁর পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন মমতা। সেই সময়ই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।