নিজস্ব প্রতিনিধি নয়াদিল্লি ও কলকাতা: আজ, ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে ‘এমপ্লয়িস এনরোলমেন্ট ক্যাম্পেন’ চালু করছে শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন সংস্থা ইপিএফও। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (ইপিএফও)। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মী ইপিএফ পরিষেবার বাইরে ছিলেন, প্রধানত তাঁদের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যেই এহেন পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের। এর জন্য নামমাত্র ১০০ টাকা পেনাল্টি দিতে হবে সংস্থাকে। এই সময়সীমার মধ্যে তাঁদের এমপ্লয়িস কন্ট্রিবিউশনের পরিমাণও মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইপিএফও। দপ্তরের অন্দরের খবর, এই প্রকল্পে সুরাহা পেতে পারেন বাংলার অন্তত ২০ লক্ষ কর্মী।
প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার পরও কেন নতুন করে ‘এমপ্লয়িজ এমপ্লয়মেন্ট’ প্রকল্প চালু করছে কেন্দ্র? এক পিএফ কর্তার কথায়, প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার মূল লক্ষ্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অর্থাৎ যেসব সংস্থা নতুন করে কর্মীদের কাজে নেবে, তাদের জন্য উৎসাহমূলক আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। আর্থিক সুবিধা পাবেন কর্মীরাও। কিন্তু যাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করছেন এবং ন্যায্য পিএফ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের যাতে সেই সুবিধা দেওয়া যায়, তার জন্য এই নয়া প্রকল্প। বহু সংস্থা আছে, যারা মোটা টাকা পেনাল্টির ভয়ে ইচ্ছা থাকলেও কর্মীদের পিএফের সুযোগ দিতে চায় না। সেই সঙ্কট কাটাতেই এই উদ্যোগ।
প্রকল্পটি চলবে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ ছ’মাস প্রকল্পটি চালু রাখবে কেন্দ্র। যে সংস্থাগুলির ইতিমধ্যেই ইপিএফও’তে নাম নথিভুক্ত আছে, তাদের পাশাপাশি নাম না থাকা সংস্থাও এতে যোগ দিতে পারবে। ‘এমপ্লয়িজ এমপ্লয়মেন্ট’ প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পরও চাইলে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলবে সংস্থাগুলির। ইপিএফও’র কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য শিওপ্রসাদ তেওয়ারি বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো প্রকল্প। তবে তার সুষ্ঠু প্রচার জরুরি। কেন্দ্রীয় সরকার যদি এর যথার্থ প্রচার করে, তাহলে দেশে অন্তত দেড় কোটি কর্মীকে তারা পিএফের আওতায় আনতে পারবে। এরাজ্য থেকে উপকৃত হতে পারবেন অন্তত ২০ লক্ষ কর্মী।