নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ১৭ শতাংশের কম আর্দ্রতা থাকলে চাষিদের থেকে ঢলতা বা অতিরিক্ত ধান নেওয়া যাবে না। ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে এমনই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ক্রয়কেন্দ্রে আর্দ্রতা পরিমাপ করার মেশিনও পাঠানো হয়েছে। তারপরও কোথাও সমস্যা হলে ব্লক কমিটি খতিয়ে দেখবে। জেলায় কোথাও কোথাও ঢলতা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মেমারি-২ ব্লকের কিষান মান্ডিতে চাষিরা বিক্ষোভও দেখান। তাঁরা বলেন, সরকার সহায়ক মূল্যে ধান কিনে চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ কোথাও কোথাও আর্দ্রতা বেশি থাকার অভিযোগে ওজনের থেকে বেশি ধান নিয়ে চাষিদের সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের ফুড কন্ট্রোলার শেখ আলিমুদ্দিন বলেন, চাষিদের থেকে ঢলতা বেশি নেওয়া যাবে না। মেশিনে আর্দ্রতা পরিমাপ করে ক্রয়কেন্দ্রগুলির কর্মীদের ঢলতা নিতে হবে।
খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দাবি, এখন কৃষকরা মেশিনে ধান কাটা ও ঝাড়াইয়ের কাজ করছেন। ধান শুকাচ্ছে না। ভিজে ধান নিয়ে তাঁরা ক্রয়কেন্দ্রে আসছেন। সেক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ ঢলতা দিতে হবে। শুকিয়ে আনলে ওজনের থেকে বেশি ধান নেওয়া হয় না। অনেকে ধানে আগড়া মিশিয়ে নিয়ে আসেন। তাতে সমস্যা তৈরি হয়। ধান শুকিয়ে পরিষ্কার করে আনলে চাষিরা বেশি লাভ পাবেন।
মেমারির চাষি শ্যামসুন্দর সরকার বলেন, অনেক জায়গায় সরকারি নির্দেশ মানা হচ্ছে না। চাষের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। তারপর প্রতি কুইন্টালে মাত্রাতিরিক্ত ঢলতা দিতে হলে চাষিরা আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়বেন। এখন সবে মাঠ থেকে ধান উঠতে শুরু করেছে। ধান বিক্রির টাকায় চাষিরা আলু চাষের খরচ জোগান। এভাবে ঢলতা নেওয়া হলে চাষিরা ফড়েদের দ্বারস্থ হবেন। তাতে সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। চাষিরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর উৎপাদন বেশি হবে ধরে নিয়ে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। আর কয়েকদিন পর থেকে ক্যাম্পগুলিতে চাষিদের ভিড় বাড়বে ধরে নিয়েই প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। চাষিরা বলেন, মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এছাড়া, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকেও আরও সক্রিয় করা দরকার বলে তাঁদের দাবি। তারা গ্রামে গিয়ে ধান কিনলে চাষিরা উপকৃত হবেন।