নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার জেলা কমিটি ঘোষণা হতেই বিজেপির অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বহু পুরনো সক্রিয় কার্যকর্তাদের ব্রাত্য রেখেই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন দলের একাংশ। কিছু পুরনো কার্যকর্তাদের জেলা কমিটিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে অনেকেরই ঠাঁই মেলেনি দলীয় নেতৃত্বের তালিকায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আদি-নব্যদের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। যদিও নেতৃত্বদের একাংশের দাবি, ছাব্বিশের কথা মাথায় রেখেই সবাইকে নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে অর্জুন বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ২৬জনের জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সহ সভাপতি পদে রয়েছেন আটজন। দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে চারজনকে। তাঁরা সকলেই নতুন। তাঁদের মধ্যে থেকেই অনেকে সহ সভাপতি এবং সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পেয়েছেন। সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে আটজনকে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সহ সভাপতি পদে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন দলের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা আদি কার্যকর্তা বাপি সিংহরায় এবং রঞ্জন অধিকারীকে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কমিটিতে অনভিজ্ঞদের রাখা নিয়ে সরব হয়েছেন রঞ্জনবাবু। তিনি বলেন, নতুন-পুরনো মিলিয়ে যতই কমিটি তৈরি হোক না কেন, তাতে নবাগতদের সংখ্যাই বেশি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এঁদের অভিজ্ঞতা ও মানসিকতা কোনওটাই নেই। এই নবগঠিত কমিটি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না।
সহ সভাপতি থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন সৈকত সরকার। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে নতুন-পুরনো সকলেই রয়েছেন। কারণ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ রয়েছে সকলকে নিয়ে কাজ করার। আমরা সেইমতো কাজ করছি। বেশকিছু জায়গায় পুরনো নেতৃত্বদের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এই নতুন কমিটি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।
বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। শাসক, বিরোধী উভয় শিবিরই ঘর গোছাতে তৎপর হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তারপরেই বিজেপির তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় নতুন জেলা কমিটি। গত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। নির্বাচনের সময় এক হাজারের বেশি আদি কার্যকর্তার কার্যত বসে থাকাই এর অন্যতম কারণ। যদিও বেশকিছু বিধানসভায় তারা ভালো ফল করেছিল। যার মধ্যে অন্যতম হল কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং তেহট্ট বিধানসভা। এই তিনটি কেন্দ্রেই ঘাসফুল শিবিরের মুখ পুড়েছিল। যা নির্বাচনে হেরেও অক্সিজেন জুগিয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। আসন্ন বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল ধরে রাখার পাশাপাশি নাকাশিপাড়ার মতো বিধানসভাকেও পাখির চোখ করছে বিজেপি। কিন্তু তাতে আদি-নব্যের দ্বন্দ্বই বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদি কার্যকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, উনিশ এবং একুশের বিধানসভা নির্বাচনে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাঁদের সরিয়ে কমিটি গঠন করলে আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, বিজেপি অনেক আগেই সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এবার ওঁদের কার্যকর্তারাই দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। আমরা ওঁদের নিয়ে ভাবছি না। মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক পরিষেবা পৌঁছে দিতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।