Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া মেডিক্যালে নয়া নির্দেশিকা, না জানিয়েই সিনিয়র ডাক্তাররা ছুটিতে নয়

কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া যাবে না।

বাঁকুড়া মেডিক্যালে নয়া নির্দেশিকা, না জানিয়েই সিনিয়র ডাক্তাররা ছুটিতে নয়
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া যাবে না। সিনিয়র চিকিৎসকদের এমনই কড়া নির্দেশ দিয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে সরকারের নির্দেশিকা সকলকে মেনে চলতে হবে বলে বাঁকুড়া মেডিক্যালের এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে হাসপাতালের শিশু বিভাগের এক চিকিৎসক কাউকে কিছু না জানিয়ে দু’দিনের জন্য উধাও হয়ে যান। তাঁর আওতায় ভর্তি শিশুরা চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয় বলে অভিভাবকরা অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দ্বারস্থ হওয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। পুরো বিষয়টি ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সজাগ হয়।

Advertisement

এমএসভিপি বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় ‘স্টেশন লিভ’ তথা হাসপাতাল পরিত্যাগ করা যায় না। একান্তই যেতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিতে হয়। আমি বা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেলার বাইরে সরকারি কাজে গেলেও অন্য কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাঁকুড়া ছাড়ি। এব্যাপারে রাজ্য সরকার তথা স্বাস্থ্যদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। সেই বিষয়টি মাথায় রাখার জন্য সিনিয়র চিকিৎসক সহ সকলকে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিশু বিভাগের ঘটনাটি যেদিন ঘটে, সেদিন আমি কলকাতায় ছিলাম। বিষয়টি জানার পর ওই সিনিয়র চিকিৎসককে দ্রুত হাসপাতালে ফিরতে বলি। ভবিষ্যতে ওই ধরনের কাজ যাতে তিনি না করেন, সেব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার বাইরে রাজ্যে যেসব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের পরিষেবা পাওয়া যায়, তারমধ্যে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অন্যতম। গত কয়েকবছরে হাসপাতালে বেশকিছু জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে। আগে ওই ধরনের অপারেশনের জন্য জঙ্গলমহলের রোগীদের কলকাতায় যেতে হতো। পরপর সাফল্য পাওয়ায় বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তরফে বাঁকুড়া মেডিক্যালকে কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন মেশিন, যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। তার ফলে পরিষেবা আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মতো হাসপাতালের একশ্রেণির সিনিয়র চিকিৎসকদের ফাঁকিবাজি মানসিকতার জন্য রোগীদের বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তাঁরা জুনিয়র ডাক্তারদের উপর সবকিছু ছেড়ে দিয়ে হয় নার্সিংহোমে রোগী দেখেন, না হলে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের সঙ্গে সময় কাটান। ‘আসি যাই, মাইনে পাই’ গোছের ওই চিকিৎসকদের কারণে রোগীদের জন্য নিরলস পরিশ্রম করা ডাক্তারদেরও নানা কথা শুনতে হচ্ছে। ফলে সুনামের সঙ্গে পরিষেবা দেওয়া চিকিৎসকরাও গুটিকতক সহকর্মীর উপর রীতিমতো বিরক্ত।
এক জুনিয়র ডাক্তার বলেন, আউটডোর বা ওয়ার্ডে আমরা সর্বক্ষণ থাকি। সিনিয়র চিকিৎসকরা দফায় দফায় এসে রোগী দেখেন। তাঁদের কাছ থেকে আমরা হাতেকলমে পাঠ নিয়ে থাকি। ফলে সিনিয়র চিকিৎসকরা ফাঁকি দিলে বা হাসপাতালে অনিয়মিত হয়ে পড়লে, রোগীদের পাশাপাশি আমরাও বঞ্চিত হই। এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ