নয়াদিল্লি ও কলকাতা: উৎসবের মরশুমেই আসতে চলেছে জিএসটি নিয়ে সুখবর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুর্গাপুজোর আগেই নয়া জিএসটি-র হার চালু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আকাশ ছোঁওয়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে অনেক পণ্যেরই দাম কমিয়ে ক্রেতাকে সুরাহা দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে জিএসটি কাউন্সিল। আগামী মাসের ৩ থেকে ৪ তারিখ দিল্লিতে বসতে চলেছে কাউন্সিলের বৈঠক। জানা যাচ্ছে, বৈঠকের সিদ্ধান্তের পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে নোটিস দিয়ে নয়া জিএসটি হার ঘোষণা করা হবে। আর ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা চালু হয়ে যাবে। ২২ সেপ্টেম্বরই শুরু হচ্ছে নবরাত্রি। আর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী তার ক’দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর।
বর্তমানে শূন্য, ৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশ হারে জিএসটি ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। বহুদিন ধরেই জিএসটি সরলীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে ব্যবসায়ী মহল। এই অবস্থায় গত ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবেসের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন, ‘সরকার জিএসটি ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের উপর থেকে করের বোঝা কমবে। এটাই হবে আপনাদের দীপাবলির উপহার।’
ইতিমধ্যে ১২ ও ২৮ শতাংশের জিএসটি ধাপতুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কাউন্সিল বৈঠকে সেই সুপারিশকেই মান্যতা দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জিএসটি সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীকে (জিওএম) যাবতীয় পণ্য ও পরিষেবাকে ‘মেরিট’ এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড’ এই দুই ভাগে বিভক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। সেই হিসেবে পণ্য ও পরিষেবা কর ধার্য করতে বলেছে। এর বাইরে অতি বিলাসবহুল গাড়ি এবং ‘সিন গুডসের’ জন্য বিশেষ ৪০ শতাংশ জিএসটি বসানোর হতে পারে।
নরেন্দ্র মোদির ‘দীপাবলি’র সময়সীমা নিয়ে অবশ্য আপত্তি তুলেছে গাড়ির ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন ফেডারেশন অব অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনস বা ফাডা। তাদের বক্তব্য, গণেশ চতুর্থী থেকে সেই উৎসব-পর্ব শুরু হচ্ছে। সেই উৎসবের দিকে নজর রেখে ডিলাররাও ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ‘স্টক’ বা শোরুমে গাড়ির সম্ভার বাড়িয়ে রেখেছে। ডিলার কর্তাদের বক্তব্য, ক্রেতারা তাঁদের কাছে বারবার জানতে চাইছেন, নতুন জিএসটির হার কত হবে এবং তা কবে কার্যকর হবে। ফলে গাড়ি বিক্রি কিছুটা মন্থর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জিএসটির হার নিয়ে অস্পষ্টতা জিইয়ে রাখলে, ক্রেতারাও কেনাকাটা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবেন। পাশাপাশি ডিলারদেরও আর্থিক ক্ষতি হবে। তাদের আর্জি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়া হার প্রযোজ্য হোক।