নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: হোয়াটসঅ্যাপে হুবহু পিডিএফ ফাইলের মতো দেখতে একটি অ্যাপ্লিকেশন পাঠিয়ে স্ক্যামাররা প্রতারণার ফাঁদ পাতছে। পিডিএফ মনে করে সেই অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করলেই বিপদ। অ্যাপটি এমনভাবে পাঠানো হচ্ছে যে, কেউ তাতে ক্লিক করলে ওই ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। সেই সেটা জমা হচ্ছে স্ক্যামারদের অ্যাকাউন্টে।
বিপদের এখানেই শেষ নয়। ওই অ্যাপ্লিকেশনটি মোবাইলে ডাউনলোড করার পর যদি কেউ ইন্সটল করেন, তাহলে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে থাকা সমস্ত গ্রুপগুলিতে ওই অ্যাপ্লিকেশনটি চলে যাবে। সেইসব গ্রুপের সদস্যরা বিশ্বাস করে অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করলে তাদের অ্যাকাউন্টও সাফ হয়ে যাবে। এভাবে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে খুব সহজেই হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে পিডিএফের ছদ্মবেশে এই প্রতারক অ্যাপ্লিকেশন।
ডোমকলের এক ভাড়া বাড়িতে বসে এভাবেই গোটা দেশে সাইবার প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল ঝাড়খণ্ডের তিন বাসিন্দা! বৃহস্পতিবার আচমকা ওই বাড়িতে হানা দেয় পুলিস। হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সালামুদ্দিন আনসারি, কালামুদ্দিন আনসারি এবং নিয়াজ আনসারি। তিনজনেরই বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে। তাদের কাছে থেকে ১০০টি এটিএম কার্ড, ৬০টি ব্যাঙ্কের পাসবুক সহ উদ্ধার হয় একাধিক মোবাইল, বহু সিম কার্ড ও কম্পিউটার। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য পেয়েছে পুলিস।
মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিস সুপার (লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, ওই সাইবার প্রতারণা মামলায় প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় মুকলেশ হোসেন নামে বহরমপুরের রাজধরপাড়ার এক বাসিন্দাকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে ডোমকলে আস্তানা গেড়ে থাকা দেওঘরের ওই তিন যুবকের নাম। মুকলেশই ওই তিন ঝাড়খণ্ডবাসীকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জোগাড় করে দিত। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে সাইবার প্রতারণার টাকা আসত। এদিকে সাধারণ মানুষ জানতেই পারে না যে, তাদের অ্যাকাউন্টে কীভাবে কারা টাকা পাঠাচ্ছে। অভিযুক্তদের মোডাস অপারেন্ডি আমারা খতিয়ে দেখছি।
মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিসের সাইবার থানার এক আধিকারিক বলেন, এই গোটা প্রক্রিয়ায় আরও কয়েকজন কিং পিন আছে। তাদেরও আমরা গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি। তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশার দুই ব্যক্তির একাউন্ট থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা এভাবেই গায়েব হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলি আসলে ম্যালেশিয়াস অ্যাপ্লিকেশন বা ম্যালওয়ার এপিকে। আসলে এক ধরনের ভাইরাস। এক মিনিটের মধ্যে এক লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। মোবাইলে ইন্সটল হওয়া মাত্রই মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে যাবে। ফলে সহজে বোঝা যাবে না, কখন কীভাবে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হবে। তাই মানুষকে সচেতন হতে হবে। সাধারণ অনেক মানুষ যারা হোয়াটসঅ্যাপে অতটা সাবলীল নন, তাঁদেরই বেশি বিপদ ঘটছে।