Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগী নয়াদিল্লি, ২০ হাজার কোটির মৎস্যপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাংলায়, দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মৎস্যপণ্য রপ্তানিকে আগামী দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকায় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে এদিন রাজ্যে এসে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং।

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগী নয়াদিল্লি, ২০ হাজার কোটির মৎস্যপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাংলায়, দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মৎস্যপণ্য রপ্তানিকে আগামী দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকায় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে এদিন রাজ্যে এসে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে মৎস্যচাষের উন্নয়ন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়। তারপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন রাজীবরঞ্জন। সেখানেই একথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে ভারত সরকার ইলিশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সম্প্রতি গুজরাত এবং বাংলা থেকে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি করেছে ভারত। এই উদাহরণ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালন, ‘আগে সকলে বাংলাদেশের ইলিশের কথা বলত। এখন উলটে এখান থেকেই ইলিশ যাচ্ছে! এর থেকেই দেশের অগ্রগতি কেমন হয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।’   

Advertisement

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক মৎস্যচাষ, এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য। এখানে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। তবে এই রপ্তানি ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় বাগদা চিংড়ি, কাঁকড়া, ইলিশ এবং বিভিন্ন ধরনের বাহারি মাছকে কেন্দ্র করে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, এদিন ছয়টি জলাধারের উন্নয়নসহ নানা প্রকল্পের জন্য ৯ কোটি টাকার বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছে। আবার দেশে মাছের উৎপাদন ২০১৪ সালে ৯৫.৭ লক্ষ টন থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৯৭.৭৫ লক্ষ টনে পৌঁছেছে। একই সময়ে মৎস্যপণ্যের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।  
রাজ্যের মৎস্য প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মহাতার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে মাছের উৎপাদন হয়েছে ২৫.৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন। উৎপাদনের নিরিখে রাজ্যটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদক এবং মাছের বীজ উৎপাদনেও রাজ্য শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান। আবার আগামী মাস থেকে গোটা দেশে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার  দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। সেক্ষেত্রে আওতায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উভয়ের গলাতেই পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যের মৎস্যজীবীদের বঞ্চিত হওয়ার কথা উঠে আসে। তবে গত চারমাসে প্রতিটি প্রকল্প চালু হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় পোর্টালে নাম লিখিয়েছেন রাজ্যের ২ লক্ষ মৎস্যজীবী।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ