Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোবাইলে ‘রিসেট’ অপশন পাঠাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা, নিমেষে ফাঁকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

সাইবার প্রতারণায় এবার অভিনব পদ্ধতি। পুরো মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।

মোবাইলে ‘রিসেট’ অপশন পাঠাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা, নিমেষে ফাঁকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সাইবার প্রতারণায় এবার অভিনব পদ্ধতি। পুরো মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। তারপর নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নিচ্ছে। প্রতারণার এমন অভিনব পন্থা দেখে বিস্মিত তদন্তকারীরা। এর জন্য কেন্দ্র সররকারকে কাঠগড়ায় তুলছেন প্রতারিত ব্যক্তিরা। 

Advertisement


এই পদ্ধতিতে মোবাইলে ‘রিসেট’ অপশন পাঠাচ্ছে প্রতারকরা। মোবাইলের মালিক করলেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। রামপুরহাট শহরের বেশ কয়েকজন এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তেমনই একজন রামপুরহাটের ব্যবসায়ী সত্যজিৎ দত্ত। তিনি জানান, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে তাঁর মোবাইলে হঠাৎই ‘রিসেট’ অপশন আসে।  কোনোমতেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি। অন্য কোনো অপশনেও যাওয়া যাচ্ছিল না। মোবাইল রিস্টার্ট করার পরও রিসেট অপশন চলে আসছে। বাধ্য হয়ে তিনি রিসেট অপশন ক্লিক করে আবার নতুন করে মেল আইডি দিয়ে ফোন রেডি করার পর প্লে-স্টোর থেকে ফোন পে সহ প্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলি ডাউনলোড করেন। পরে তিনি ব্যালান্স চেক করতে গিয়ে দেখেন কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা কর্ণাটকের প্রগতিশীল গ্রামীণ ব্যাঙ্কে আব্দুল আজিম নামে একজনের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে। তিনি বুঝতে পারেন, সাইবার জালিয়াতি চক্রের পাল্লায় পড়েছেন। তড়িঘড়ি তিনি ব্যাঙ্কে যান। নিজের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। বিস্তারিত জানিয়ে তিনি রামপুরহাট সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 


সত্যজিতবাবু বলেন, আমি কোনো লিঙ্কে ক্লিক করিনি, তারপরও অন্য কেউ আমার ফোন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টাকা ট্রান্সফার করে নিল। এই ধরনের ক্রাইম যদি হয় তাহলে কি সরকারের কোনও দায় নেই। এই টাকা তো অফলাইন নয়, অনলাইনে ট্রান্সফার করা হয়েছে। কিন্তু না ব্যাঙ্ক, না সাইবার ক্রাইম থানা, কেউ টাকা ফেরতের আশ্বাস দিচ্ছে না। সরকার বলছে গো ডিজিটাল, একটা দেশলাই কাঠি কিনতে গেলে অনলাইন করতে বলছে সরকার। সেখানে এই ধরনের জালিয়াতি রোখার দায় কি সরকারের নেই?


 দিন কয়েক আগে এই শহরেরই আরেক বাসিন্দার অ্যকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা লোপাট করে দিয়েছে সাইবার অপরাধীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তিও বলেন, আমরা ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় গা ভাসাতে চাই। কিন্তু সুরক্ষার বিষয়টি তো সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে। রামপুরহাট সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিক সুরজিৎ সাহা বলেন, অনেক সময় পিএম কিষাণ, ফ্লিপকার্ট সাপোর্ট বা আরটিও চালান নামে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাপ্লিকেশন চলে আসে। আমাদের বলার, হোয়াটসঅ্যাপে যতই ঘনিষ্ট হোক না কেন, কারও পাঠানো কোনো অ্যাপ্লিকেশন ভুল করেও ইনস্টল করবেন না। প্রতারকরা নিজেদের মতো করে অ্যাপ্লিকেশনগুলি তৈরি করে জালিয়াতি করছে। কেউ ইনস্টল করতেই মোবাইলগুলি তাদের কন্ট্রোলে নিয়ে নেয় প্রতারকরা। সবসময় প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করবেন। রিসেট অপশন পাঠিয়ে যাঁদের সঙ্গে জালিয়াতি হয়েছে তাঁরা হয়তো ভুলবশত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করে ফেলেছেন। তারজন্যই এমনটা হয়েছে। এটা প্রতিরোধের জন্য ‘এম কবচ’ নামে একটি অ্যাপ রয়েছে। সেটা দিয়ে এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলি স্ক্যান করে রিমুভ করতে হয়। অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত করার জন্য এটি একটি নিরাপত্তা অ্যাপ। যদি কেউ না পারেন তাহলে আমাদের অফিসে আসলে সেটা করে দেব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ