নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কলকাতা থেকে পাটনা সোনা পাচারের নয়া করিডর হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব থেকে সোনার বিস্কুট বা বাট কলকাতার কয়েকজন কারবারির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তারা তা ক্যারিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছে পাটনায়। কলকাতার সিঁথির মোড়ের এক মাস্টারমাইন্ডের নাম আরপিএফ জানতে পেরেছে। সে গত এক বছরের মধ্যে প্রায় ৫০টি সোনার বিস্কুট বিহারের পাটনায় পাঠিয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটের দাম প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা। শুক্রবার তার গ্যাংয়ের সদস্য শঙ্কর কোটালকে আরপিএফ গ্রেফতার করে। সে পাটনায় সোনার বিস্কুট পৌঁছে দিয়ে ট্রেনে কলকাতা ফিরছিল। সেই সময় আরপিএফ তাকে বর্ধমান স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। তার ব্যাগ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। আরপিএফের পাশাপাশি আয়কর দপ্তর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এক আধিকারিক বলেন, ধৃত জেরায় স্বীকার করেছে এর আগে সে আট থেকে ১০ বার কলকাতা থেকে পাটনায় সোনা পৌঁছে দিয়ে এসেছে। প্রতিবারই এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্যাগে সোনার বিস্কুট ভরে নিয়ে গিয়েছে। কলকাতা সিঁথিরমোড়ের এক পাচারকারী সোনা দিয়ে পাঠিয়েছিল। ওই পাচারকারীকে নোটিশ করা হবে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌদি আরব থেকে সোনার বিস্কুট উত্তর ২৪ পরগনা ও শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীরা নিয়ে আসছে। কখনও কখনও মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া সীমান্ত দিয়েও চোরাই সোনা এ রাজ্যে ঢুকছে। বাংলাদেশের পাচারকারীদের কাছে হাওলার মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যায়। এপারে পাচার হওয়া সোনা একাধিকবার হাত বদল হয়। এক সময় এই রাজ্যের বিভিন্ন সোনা দোকানে সেগুলি গলিয়ে বিক্রি হত। এখন পুলিশ বা অন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি ধরপাকড় শুরু করায় অনেক ব্যবসায়ী চোরাই সোনা কিনতে চায় না। বিহারের কারবারিদের কাছে চোরাই সোনার চাহিদা রয়েছে। তারা সোনার বিস্কুট বা বাট গলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরি করে বিক্রি করছে। বাজার দর থেকে অনেক কম দামে চোরাই সোনা পাওয়া যায়। প্রতিটি সোনার বিস্কুট বিক্রি করে পাচারকারীরা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করে। আরপিএফ জানিয়েছে, তিন মাস আগে ট্রেনে চোরাই সোনা পাচার নিয়ে একটি ইনপুট পাওয়া যায়। তারপর থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়। আগে ব্যাগে ভরে একটি বা দু’টি করে বিস্কুট নিয়ে যাচ্ছিল। সেই কারণেই তাদের ধরা যাচ্ছিল না। কিন্তু, বিভিন্ন টেকনোলজি ব্যবহার করে নজরদারি চলছিলই। তার সুফল পাওয়া গিয়েছে। খানাকুলের বসিন্দা ধৃত পাচারকারী জেরায় আট থেকে দশজনের নাম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে তিন থেকে চারজন ক্যারিয়ারের কাজ করে। বাকিরা কলকাতা, পাটনা, বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবে বসে থেকে কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। আয়কর বিভাগের একটি দল কয়েকদিনের মধ্যে পাটনা যাবে। তারা সেখানকার কয়েকজন কারবারির নথি খতিয়ে দেখবে।



