Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বারবার ডেকেও আসেননি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী, সদ্যোজাতের মৃত্যু জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

বারবার ডেকেও সাড়া মেলেনি। আসেননি কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী। ওই অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই সন্তান প্রসব করেন প্রসূতি

বারবার ডেকেও আসেননি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী, সদ্যোজাতের মৃত্যু জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝালদা: বারবার ডেকেও সাড়া মেলেনি। আসেননি কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী। ওই অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই সন্তান প্রসব করেন প্রসূতি। মা ও সন্তানকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডাকা হলেও কোনও স্বাস্থ্যকর্মী আসেননি। তামরা ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজনই তাঁদের লেবার রুমে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় কর্তব্যরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুলে রবিবার বিক্ষোভ দেখান পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় পুরুলিয়ার জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। রোগী পরিবারের লোকজন এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।

Advertisement


পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর ব্লকের সবনপুর বাঁধডি গ্রামের বাসিন্দা অনিমা মাহাত প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে শনিবার রাতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, ভর্তির পর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন সব স্বাভাবিক রয়েছে। রবিবার ভোরে প্রসব যন্ত্রণা বাড়লে অনিমাদেবীর বাড়ির লোকজন বারবার কর্তব্যরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডাকেন। অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসক ওই প্রসূতিকে দেখেননি।


মৃত শিশুর বাবা জগদীশ মাহাতর অভিযোগ, আমরা বারবার ডাকাডাকি করলেও কেউ বিছানা ছেড়ে ওঠেননি। অসহ্য প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডেই কোনও চিকিৎসক ছাড়াই সন্তান প্রসব করে আমার স্ত্রী। প্রসবের পর সদ্যোজাতকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ডাকাডাকি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে আমরাই মা ও সদ্যোজাতকে লেবার রুমে নিয়ে যাই। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, সন্তানের মৃত্যু হয়েছে
রবিবার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।  হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীরা সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে এই করুণ পরিণতি হত না। ঘটনার বিচার চেয়ে জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং জয়পুর থানার আইসির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জগদীশবাবু। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।


বিষয়টি নিয়ে জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। সোমবার মেটারনেল অ্যান্ড চাইল্ড হেল্থ অফিসার বুদ্ধদেব মণ্ডলকে তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতালের বেডে শিশুর জন্ম হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও গুরুতর বিষয়। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আইন অনুসারে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ